ছবির ক্যাপশন:
ভরা মৌসুমেও হাসি নেই দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা অঞ্চলের কৃষকদের মুখে। মাঠজুড়ে পাকা সোনালী ধান থাকলেও তা ঘরে তুলতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। ধানের বাজারদরের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, উল্টো লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে এলাকায় প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে মাত্র ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়। অথচ ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এর সঙ্গে সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে কয়েক হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। এতে বৃষ্টি বা ঝড়ে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
কৃষক আহাম্মদ আলী বলেন, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরিও ওঠে না। সারের দাম, তেলের দামÑসবই বেশি। এখন শ্রমিকের মজুরি যদি ১ হাজার ৩০০ টাকা হয়, তাহলে আমরা চাষ করবো কীভাবে?
তিনি আরও বলেন, নিজের জমিতে চাষ করে লোকসান করার চেয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুর খাটলে অন্তত কিছু টাকা হাতে আসে।
আরেক কৃষক আব্দুল জাব্বার বলেন, এই মৌসুমে আমার সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ আছে। ধান পেকে গেছে, কিন্তু কাটতে পারছি না। ধান কাটা শ্রমিকের যে দামÑএক মণ ধান বিক্রি করে একটি শ্রমিকের মজুরিও হবে না। ধারদেনা করে চাষ করছি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে আমাদের মতো কৃষকদের পক্ষে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না।
স্থানীয়দের মতে, ধান কাটার ভরা মৌসুমে শ্রমিকের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে একশ্রেণির শ্রমিক মজুরি বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের সরবরাহ বেশি দেখিয়ে পাইকাররা দাম কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে দ্বিমুখী চাপে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, সরকার দ্রুত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ভর্তুকি মূল্যে কৃষিযন্ত্র, বিশেষ করে হারভেস্টার সরবরাহ বাড়ালে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে অনেকেই ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
