পাখির ডাকে মুখর ঝিনাইদহের জনপদ

আপলোড তারিখঃ 2026-04-29 ইং
পাখির ডাকে মুখর ঝিনাইদহের জনপদ ছবির ক্যাপশন:

ভোরের সূর্য ওঠার আগেই কিচিরমিচির শব্দে এখন ঝিনাইদহের মানুষের ঘুম ভাঙে| শুধু ভোর নয়, সকাল, দুপুর কিংবা নিঝুম রাতেও ডানা ঝাপটানো হরেক প্রজাতির পাখির ডাকে মুখরিত জনপদ| এক সময় বিলুপ্তপ্রায় মনে হলেও, গত দুই দশকে দেশের গ্রামাঞ্চল যেন পাখিদের এক নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে| মূলত জীববৈচিত্র্য আইনের আওতায় সারা দেশে পাখি শিকার নিষিদ্ধ করার পর থেকেই প্রকৃতির এই ‘প্রাণভোমরা’রা ফিরে পেতে শুরু করেছে তাদের হারানো সাম্রাজ্য|

ঝিনাইদহের সাবেক জেলা বন কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দীন মুকুল জানান, এক সময় শিকারিদের উপদ্রব আর বন-জঙ্গল উজাড় হওয়ার কারণে অনেক পাখির প্রজাতি হারিয়ে যেতে বসেছিল| কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, পুলিশের নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে চিত্রটি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন|

তিনি আরও বলেন, গ্রামের ঝোপঝাড়, পুকুরপাড় আর পুরনো গাছগুলোতে এখন নির্ভয়ে বংশ বিস্তার করছে হাজারো প্রজাতির পাখি| বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে গেলে দোয়েল, চড়ুই, শালিক, বুলবুলি, টুনটুনি, ঘুঘু, হরিয়াল, বক, শামুকখোল, গাংচিল, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, ডাহুক, কোকিল, ফিঙে, শ্যামা, হলুদ পাখি (বেনেবউ), কাঠঠোকরা, লক্ষ্মীপেঁচা ও হুতোমপেঁচা চোখে পড়ে| বিশেষ করে বিল ও নদীবেষ্টিত গ্রামগুলোতে জলচর পাখিদের দীর্ঘ লাইন আর ডানা মেলার দৃশ্য এখন নিত্যদিনের ঘটনা|

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এ এস এম আতিকুজ্জামান জানান, কঠোর আইন প্রয়োগের ফলে পাখিদের এই অবাধ বিচরণ কেবল প্রকৃতির ভারসাম্যই রক্ষা করছে না, বরং গ্রামীণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জগতেও এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে| সাত সকালে দোয়েলের শিস কিংবা দুপুরে ঘুঘুর ডাক মানুষের ক্লান্ত মনে প্রশান্তি জোগায়| স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে পাখির কলতান এক ধরনের ‘ন্যাচারাল থেরাপি’ হিসেবে কাজ করছে, যা মানুষের মন ও মননে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ˆতরি করে|

তিনি জানান, ২০০৩, ২০০৫, ২০১২ সালের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে| গ্রামগঞ্জে এখন পাখি শিকারি দেখলেই স্থানীয়রা বাধা দিচ্ছেন, যা পাখিদের বংশ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে|

ঝিনাইদহের পরিবেশবিদ জহির রায়হান জানান, গ্রামগুলোকে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পাখি গ্রাম’ বা অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে বাংলাদেশের এই জীববৈচিত্র্য পৃথিবীর মানচিত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে| জীববৈচিত্র্য আইনের কঠোর প্রয়োগ ও পাখি শিকার নিষিদ্ধকরণের ফলে গত দুই দশকে গ্রামবাংলার নিসর্গ ফিরে পেয়েছে তার হারানো জৌলুস| এখন গ্রামের ঝোপঝাড়, হিজল-তমালের শাখা আর বিস্তীর্ণ বিলের পানিতে ডানা ঝাপটায় নাম না জানা শত শত প্রজাতির পাখি, যাদের অবাধ বংশবিস্তার নিস্তরঙ্গ পল্লীজীবনকে করে তুলেছে প্রাণচঞ্চল|

মিনারা নামে এক গৃহবধূ জানান, তিনি প্রায় শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যান| নিসর্গের এই সুরভিত প্রত্যাবর্তন আর বিহঙ্গকুলের এই ˆবচিত্র্যময় সংসার জীবনের প্রতিটি বাঁকে যে প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা আধুনিক সভ্যতার কোলাহলের মাঝে এক পশলা বৃষ্টির মতোই স্নিগ্ধ ও সঞ্জীবনী|

তিনি বলেন, পাখির ডানায় ভর করে ফিরে আসা এই সবুজ সজীবতা আমাদের মাটি ও মানুষের অস্তিত্বের গভীরে এক আশার আলো সঞ্চার করে, যা যুগে যুগে বাংলার কবি ও সাহিত্যিকদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছে এবং পাখিকুলের বংশ বিস্তারের ফলে আজ সেই মুগ্ধতায় মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখছে|

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)