ছবির ক্যাপশন:
গ্রাম পর্যায়ে বিচারসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত ও সহজ বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কোনো বিকল্প নেই। এই কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে একটি প্ল্যাটফর্মে এসে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ জনপদে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা রাখলে উচ্চ আদালতে মামলার জট কমবে এবং দরিদ্র মানুষের অর্থের অপচয় রোধ হবে।’
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক বৃদ্ধি করার তাগাদা দেয়া হয়। দক্ষতা বৃদ্ধিতে গ্রাম আদালত পরিচালনার সাথে যুক্ত জনপ্রতিনিধি ও সচিবদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা ও মামলার নথি সংরক্ষণ ও দ্রুত রায় বাস্তবায়নে থানা পুলিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সুসমন্বয় নিশ্চিত করা।
উক্ত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, স্থানীয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। সভায় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম তারিক-উজ-জামান, গ্রাম আদালত কার্যক্রমের ডিস্ট্রিক ম্যানেজার আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
