ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সেচের তেমন সমস্যা নেই। জীবননগরে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ধান পেকে গেছে বলেও তিনি জানান। পাটের অবস্থাও ভালো এবং বর্তমানে মাঠে সারের চাহিদা কম। তবে তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে ধান মাড়াই শুরু হলে ডিজেলের চাহিদা বাড়তে পারে।
সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ জানান, দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও চুয়াডাঙ্গার পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। সদর হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে ৪২ জন ভর্তি হলেও অধিকাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, বর্তমানে ভর্তি আছে ৬ জন। এখন পর্যন্ত জেলায় হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, যা ১০ মে পর্যন্ত চলবে। জেলার ৮৯৬টি ইপিআই কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র জানান, প্রতি বছর ৫০০টি করে গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক এ সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বনায়নের বিকল্প নেই। জেলা পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন বিভাগকে সমন্বিতভাবে গাছ লাগানোর কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ব্যক্তিগত জমিতেও গাছ লাগাতে সবাইকে উৎসাহিত করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার জানান, পৌর এলাকায় ১২টি স্পটে ড্রেন পরিষ্কার ও মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার নতুন বাজারে ৮টি দোকান নির্মাণ করা হলেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় সেগুলো চালু করা যায়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেন, পৌরসভার জমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণে অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে যৌথভাবে বসে সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম চলমান থাকলেও জনবল সংকট রয়েছে। খালখনন কাজে জ্বালানি সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া বনায়ন টেকসই হবে না। খালখনন প্রকল্পে জ্বালানির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি নদী-নালায় কচুরিপানা দ্রুত অপসারণ এবং ইটভাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আমিনুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শাহিনুর ইসলাম, জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সরোজ কুমার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুত কুমার বিশ্বাস, সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজল মিয়া, এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আসানুল হক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের, বিআরডিবির উপ-পরিচালক জাকিরুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক সাহা, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা খাতুন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ওয়ালিউর রহমান, জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
