জীবননগরে অনিয়মেই চলছে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ

তদন্তের আশ্বাস দিলেও সওজের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই

আপলোড তারিখঃ 2026-04-09 ইং
জীবননগরে অনিয়মেই চলছে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ ছবির ক্যাপশন:

জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। স্থানীয় দৈনিকসহ একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে যশোরের ঠিকাদার মইনুদ্দিন বাঁশির প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের আওতায় সড়কের দুই পাশে এজিং ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। তবে শুরু থেকেই ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।


অভিযোগ রয়েছে, বালুর পরিবর্তে মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নমানের ও ভাঙা পুরাতন ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য উপযোগী নয়। সরেজমিনে জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি পশুহাট সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন কালভার্টের ভাঙা ইট, মাটি মিশ্রিত বালু ও খোয়া পাশাপাশি রাখা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, নিম্নমানের এসব উপকরণ ভালো মানের উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই এভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।


এছাড়া জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের উথলী বিজিবি ক্যাম্পের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণের এজিং দেওয়ার পর কার্পেটিং কয়েক ইঞ্চি নিচু করে দেওয়া হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অনেকের অভিযোগ, পিচের পরিবর্তে অতিরিক্ত মবিল ব্যবহার করা হচ্ছে।


এর আগে চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের জেলা প্রকৌশলী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং পরীক্ষা ছাড়া কোনো কাজ চলবে না। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওই বক্তব্যের দিন থেকেই কাজ অব্যাহত রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার আলামিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কোনো অনিয়ম করছি না। সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী ও সুপারভাইজারদের উপস্থিতিতেই বালু ও খোয়ার মিশ্রণ করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চুয়াডাঙ্গা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দেখতে মাটির মতো মনে হলেও এগুলো বালুই। কুষ্টিয়া থেকে আনা হয়েছে এবং ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে। প্রমাণপত্র আমাদের কাছে রয়েছে।’ খোয়ার মান নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, দুই বা তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না, তবে কিছু পুরাতন ইটের খোয়া থাকতে পারে।


তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক যোগসাজশের মাধ্যমে নিম্নমানের কাজকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার শাহীনসহ কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


এ বিষয়ে জীবননগরের সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনসাধারণের টাকায় নির্মিত এ সড়ক টেকসই না হলে ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষই।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)