ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের সময় দুই ভুয়া সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এসময় তাদের আরও চার সহযোগী পালিয়ে যায়। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পীচমোড় চিংড়িখালী ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক দুজন হলেন- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে রিজভী সালমান রহমান (২৯) ও একই উপজেলার গাবতলাপাড়া গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে আহাদ আলী (৩৫)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি ওই এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করলে দুইজন ধরা পড়ে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী গোয়ালপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে লিখন আহমেদ বলেন, ‘গত ১০ মার্চ আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি যাচ্ছিলাম। আমি চিৎড়িখালী ব্রিজে পৌঁছালে ডিবি পোশাক পরা ৬ জন আমাকে আটক করে। পরে আমার হাতে হ্যানক্যাফ পরিয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলায় নিয়ে যেয়ে টাকা ও মোটরসাইকেল নিয়ে নেয়। তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে রেখে চলে যায়। আজ যে দুজন আটক হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন সেদিন ছিল।’
মেদেনীপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গত বছরের জুলাই মাসে আমি বাজার থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। আমি পীচমোড় পার হয়ে চটকাতলা এলাকায় পৌঁছালে ডিবির পোশাক পরা ৫ জন আমাকে ধরেন। এর মধ্যে প্রাইভেটকারে ৩ জন আর মোটরসাইকেলে দুজন ছিল। তারা আমাকে মারধর করে মোটরসাইকেল ও ১০ হাজার টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। আজ যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন সেদিন ছিল।’[
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গায় একটি মিটিংয়ে ছিলাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানা-পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। আটক দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
