ছবির ক্যাপশন:
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চুয়াডাঙ্গায় সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজ চত্বরে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর সার্কিট হাউজ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে অপরিষ্কার রাখা হলে জরিমানার আওতাভুক্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয় স্থানীয়দের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সবার সহযোগিতায় আজ চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি প্রান্তে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্যের কারণে পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি মানুষের শরীরেও বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এসব বর্জ্য ও জমে থাকা পানির কারণে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে'।
তিনি আরও বলেন, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গায় এ অভিযান শুরু হয়েছে। এখন থেকে প্রতি শনিবার শহরের একেকটি এলাকায় এ ধরনের পরিষ্কারুপরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে'।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন—এটাই প্রত্যাশা'।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, 'আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা শহরের ১৫টি স্থানে একযোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। সেদিন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্কুল০কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। মোট ১৫টি দলে বিভক্ত হয়ে একদিনেই পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে'।
তিনি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হলো নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর উপহার দেওয়া। শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়, প্রতি শনিবারই এ ধরনের কার্যক্রম চালু রাখা হবে, যাতে শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে এবং মানুষ রোগবালাই থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত থাকতে পারে'।
তিনি আরও বলেন, 'একটি শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে মানুষের মনও ভালো থাকে। আমরা যখন বিদেশে যাই, তখন তাদের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে ভালো লাগে। তাহলে কেন আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে তেমনি পরিচ্ছন্ন রাখতে পারব না? আমাদেরও লক্ষ্য—নিজেদের শহরকে অন্য উন্নত শহরের মতো সুন্দর ও পরিপাটি করে গড়ে তোলা'।
তিনি বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে বলেন, বাড়ির সামনে বা আশপাশে যেন কোনো ধরনের বর্জ্য জমে না থাকে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আগামী শনিবারের মধ্যেই এসব বর্জ্য পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এ উদ্যোগ সফল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক'।
এসময় পৌরসভা বেশ কিছু লেবার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের মাস্ক ও গ্লাভস সরবরাহ করেন। পরিষ্কার করা আবর্জনা সার্কিট হাউজের পেছনে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ড্রেন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং নিয়মিত মশক নিধন স্প্রে (লার্ভিসাইড ও ফগার) কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানে অংশ নেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নাঈম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিস মোমতাজ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুর রহমান, টিটিসির অধ্যক্ষ মুছাব্বেরুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পৌরসভা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ও সাংবাদিকেরা।
