ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন মালিতার কোটি টাকার বাড়ি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বড় মেয়ে মমতাজ খাতুনের বিরুদ্ধে। ৭৮ বছর বয়সী এ বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বর্তমানে নিজের বসতবাড়ি ছেড়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থান করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার শৈলকূপা থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, মনোয়ার হোসেন মালিতার বড় মেয়ে মমতাজ খাতুন গত ১৬ জানুয়ারি পিতার বাড়িতে এসে ৭ শতক জমির ওপর নির্মিত কোটি টাকার ওই বাড়িটি নিজের বলে দাবি করেন। মমতাজের দাবি, ২০০২ সালের ৯ এপ্রিল তার পিতা তার নামে দানপত্র (নং-২১২৭/২০০২) করে দিয়েছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিম আইনে দানপত্র সম্পাদনের পরপরই তা নামজারি বা রেকর্ড করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে জমির এসএ ও সিএসসহ সব কাগজপত্রই বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন মালিতার নামে রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত জমির খাজনা ও ইউটিলিটি সার্ভিসের সব বিল পরিশোধ করে আসছেন।
মনোয়ার হোসেন মালিতা দাবি করেন, তিনি কখনোই তার মেয়ের নামে ওই জমি দানপত্র করেননি। তারআরও চার সন্তান থাকা সত্ত্বেও বিবাহিত ও প্রতিষ্ঠিত মেয়ের নামে তিনি কোনো দিন রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি বা দলিলে স্বাক্ষর করেননি।
তিনি আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে অসুস্থতার কারণে প্রায়ই ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল ও মমতাজ ট্রমা সেন্টারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও করোনার চিকিৎসা নিয়েছেন। সে সময় বড় মেয়ে মমতাজ তার সঙ্গে থাকতেন। হয়তো সেই সুযোগে জাল দলিল তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
এ বিষয়ে মমতাজ খাতুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার পিতার দায়ের করা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ূন কবীর মোল্যা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন মালিতা তার বড় মেয়ের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
