সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই উত্তেজনা

রাষ্ট্রপতিকে প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে নানা স্লোগান ও হট্টগোল, ওয়াক আউট

আপলোড তারিখঃ 2026-03-13 ইং
সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই উত্তেজনা ছবির ক্যাপশন:

শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠকেই সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তার ভাষণের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতসহ বিরোধী দল। নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ প্রদানের জন্য আহ্বান জানালে নানা স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেন প্রধান বিরোধীদল জামায়াতের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’সহ বিরোধী দলের এমপিরা। তিন মিনিট পর রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে তার সামনেই তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এ নিয়ে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে চলে হট্টগোল। রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে ৩টা ৪০ মিনিটে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। হট্টগোল ও তীব্র হই-চইয়ের মধ্যেই ভাষণ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্য সদস্যরা এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন।


স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের জন্য সংসদে রাষ্ট্রপতিকে প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় সব সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে শুধু জামায়াতের আমির তার আসনে বসে ছিলেন। স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে তারা বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। এভাবে বিরোধীদলের সদস্যরা সবাই একযোগে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানোর একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান ধরেন। এই হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে স্পিকারের আসনের পাশে আসেন। স্পিকার তাকে চেয়ারে বসার অনুরোধ জানান। তখনো বিক্ষোভ চলছিল। একপর্যায়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে তার ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান।


রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান মাইক ছাড়াই দাঁড়িয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। অন্য সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। তখন কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রুপ করেন।


স্পিকার এসময় বারবার সংসদ সদস্যদের প্রতি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করার আহ্বান জানান। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। শেষে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ‘ওয়াকআউট’ করার ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এসময় এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ডায়াসের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে নিবৃত্ত করেন জামায়াতের ডা. তাহের ও এনসিপির নাহিদ ইসলাম। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভাষণ চালিয়ে যেতে থাকেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হয়। এর পরপরই অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় সদস্যরা আর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেননি।


হট্টগোল-হইচইয়ের কারণে জাতীয় সংগীতও শোনা যাচ্ছিল না, শুরুতে অনেকে বসে ছিলেন:
রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের এক মিনিট পরেই নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলের সদস্যদের তীব্র হইচইয়ের কারণে জাতীয় সংগীত বাজার শব্দ কেউ ঠিকভাবে শুনতে পারছিলেন না। কিন্তু এসময় স্ক্রীনে জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছিল। শব্দ না শোনার কারণে শুরুতে অনেককেই বসে থাকতে দেখা গেছে। পরে খেয়াল করায় জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে যান। এসময় বিক্ষোভ থামিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. তাহের মাইক ছাড়াই বলেন, আমরা জাতীয় সংগীতকে সম্মান জানাচ্ছি, রাষ্ট্রপতিকে নয়।


মানবতাবিরোধী অপরাধে দ্লিত সাতজনের জন্যও সংসদে শোক:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ৩১ জনের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এই শোক প্রস্তাবে যুক্ত করা হয়েছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দ্লিত জামায়াতের ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নাম। জামায়াতের প্রয়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম  শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন। সংসদে আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।


সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণেও শোক প্রস্তাব আনা হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আরো কয়েকটি নাম যুক্ত করার অনুরোধ জানান। তার প্রস্তাবে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়াও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম যুক্ত করার কথা বলা হয়। পরে স্পিকার তা অনুমোদন করেন।


এরপর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠে বলেন, শোক প্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো বলার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কথা বলার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে মাইক দেন। তাহের বলেন, শোক প্রস্তাব ‘একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে’ এবং ভবিষ্যতে সংসদকে ‘নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত’ করতে আরো সচেতন হওয়া দরকার। এসময় তিনি আরো কয়েকজনের নাম বলে সেগুলো শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তার বক্তব্যে মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোবহান, শেখ আনছার আলী, রিয়াসাত আলী, আবদুল খালেক ম্লল, হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এ কে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলীর নাম আসে।


ডা. তাহের বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রসঙ্গে শোক প্রস্তাবে ‘জামায়াতে ইসলামী’র বদলে ‘হেফাজতে ইসলামী’ বলা উচিত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহতদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেখানে ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ কথা বলেন এবং শরিফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যাদের নাম বলেছেন, সেগুলো শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শোক প্রস্তাবে আরো কিছু নাম সংযোজিত হবে বলে জানান স্পিকার। তারা হলেন- ছালেহা খানম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কামাল ইবনে ইউসুফ ও নাসির উদ্দিন আহমেদ পিণ্টু।


এরপর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম আরো কয়েকটি নাম যোগ করার প্রস্তাব দেন। তিনি গৌতম চক্রবর্তী, এম এ মতিন, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, আনোয়ারুল হোসেন খান এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার কথা বলেন। অন্য কোনো সাবেক সংসদ সদস্য বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ পড়ে থাকলে তা সংসদ সচিবালয়কে জানাতে অনুরোধ করেন। পরে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নিয়ে শরিফ ওসমান বিন হাদী, আবরার ফাহাদ এবং ফেলানী খাতুনের নামও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন। স্পিকার তখন বলেন, এই নামগুলোও শোক প্রস্তাবে যুক্ত হবে।


বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস (জর্জ ম্যারিও বেরগোগলিও) ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরেণ্য নাগরিক ও ব্যক্তিত্ব যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণ করা হয় শোক প্রস্তাবে। জুলাই যোদ্ধা আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহারিয়ার খান আনাস, মেহেদি হাসান জুয়েল, ফারহান ফাইয়াজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বরেণ্য নাগরিকদের নামও রাখা হয় শোক প্রস্তাবে। এরপর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়। এর আগে প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন।


অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন:
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ গতকাল সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এগুলো উপস্থাপন করেন। এছাড়া গতকাল সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি, বিশেষ কমিটি ও সংসদ কমিটি গঠন করা হয়েছে।


সাউন্ড সিস্টেম ঠিকমতো কাজ না করায় ভোগান্তি, অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল স্পিকারের মাইকও:
গতকাল অধিবেশন কক্ষে সাউন্ড সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করেনি। যার কারণে স্পিকার, সংসদ নেতাসহ কারো বক্তব্যই ঠিকমতো শোনা যায়নি। কোনো কোনো সদস্য এনিয়ে আপত্তিও তোলেন। স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন প্রথমে চেয়ারে বসেন, তখন তার মাইকও কাজ করছিল না। এক পর্যায়ে তিনি হাতমাইকে অধিবেশন পরিচালনার চেষ্টা করেন। তবে এক সদস্য দাঁড়িয়ে বলেন, কিছুই শোনা যাচ্ছে না। পরে অনেকটা বাধ্য হয়ে স্পিকার জোহরের নামাজের জন্য অধিবেশন ২০ মিনিট মুলতবি করে দেন।


১৯৭৩ সালে সংসদে আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের পর এবার অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করলেন ড. মোশাররফ:
গতকাল সকাল ১১টা ৫ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়। বিদায়ী দ্বাদশ সংসদের স্পিকার (ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী) পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার (অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু) ফৌজদারী মামলায় কারাবন্দি থাকায় ব্যতিক্রমী এক প্রেক্ষাপটে গতকাল প্রথমে স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে শুরু হয় অধিবেশন। পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের পর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করার জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবটি সমর্থন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে ড. মোশাররফ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তার সভাপতিত্বেই অধিবেশনে প্রথমে স্পিকার ও পরে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।


সংসদ নেতা নাম প্রস্তাবের আগে সংসদ সচিব কানিজ মওলা অধিবেশনের শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্ব করার ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ড. মোশারফের নাম প্রস্তাব করার সময় দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।


ভিভিআইপি দর্শক গ্যালারিতে অধ্যাপক ইউনূস, ডা. জুবাইদা ও জাইমা রহমান:
গতকাল ভিভিআইপি দর্শক গ্যালারিতে বসে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসও ছিলেন তাদের পাশে। তিন বাহিনী প্রধানও ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত-হাইকশিনাররাও উপস্থিত ছিলেন দর্শক গ্যালারিতে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)