ছবির ক্যাপশন:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় দুঃস্থ অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ভিজিএফের কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় পৌরসভা চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার।
এসময় তিনি বলেন, প্রতিবছর দুইটা ঈদেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুস্থদের জন্য সরকার ১০ কেজি করে চাল প্রণোদনা দিয়ে থাকেন। যাতে ঈদে তাদের খাদ্য কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়। তারই প্রেক্ষাপটে এবারে আমাদের চুয়াডাঙ্গা পৌর নাগরিক ৪ হাজার ৬২৫ জন ১০ কেজি করে চাল পাবেন। সেই কর্মসূচি আমরা আজ উদ্বোধন করলাম। আমরা প্রতিটা ওয়ার্ডে ৪ জনের একটি কমিটি করে দিয়েছি। তারা সরেজমিনে গিয়ে তদারকি করে অতি দুস্থদের এই প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সরকার এই প্রণোদনা দিচ্ছে যাতে এই দুঃস্থ মানুষদের ঈদ আরো উৎসবমুখর হয়।’
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৪ হাজার ৬২৫ জন অসচ্ছল দুস্থ ব্যক্তির মাঝে এই সহায়তা প্রদান করা হবে। কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪০০ জন উপকারভোগীর মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সকল উপকারভোগীর কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রতিটি এলাকায় চারজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কার্ড বিতরণ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচির জন্য মোট ৪৬ দশমিক ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে।
চাল বিতরণকালে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলার বাসিন্দা আসমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী নেই, এই চালটা আমার অনেক উপকারে আসবে। চাল পেয়ে আমি খুব খুশি।’ আরেক উপকারভোগী বিজয় বলেন, ‘সকালে এসেছি এই চাল নিতে। পৌরসভার লোকজন কার্ড দিয়েছিলো। অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পর চালটা পেলাম। তবে খুব ভালো লাগছে। ঈদ সামনে সরকারের এমন উদ্যোগ আমাদের জন্য অনেক উপকারের।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম, সমাজ উন্নয়ন অফিসার আব্দুর সবুর, টিকাদান সুপারভাইজার আলী হোসেন, লাইসেন্স পরিদর্শক পলাশ আহমেদসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
