ছবির ক্যাপশন:
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার। রোজার মধ্যভাগ পেরোতেই মার্কেটগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। গতকাল সোমবার দর্শনা রেলবাজার, কেরু মার্কেট, দর্শনা পৌর মার্কেট ও কিয়ামত আলী মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দের জামা, প্যান্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজসহ নানা ধরনের পোশাক কিনছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের পোশাকের দোকানগুলোতে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি ভিড়।
পোশাক কেনা শেষ করে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রসাধনী ও অলংকারের দোকানগুলোতে। স্নো-পাউডার, চুড়ি, কানের দুল, ঘড়ি, নেকলেস, স্যান্ডেলসহ নানা ধরনের সাজসজ্জার পণ্য কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। বাজারের গার্মেন্টস, জুতা ও স্যান্ডেলের দোকান, সুতার দোকান এবং বিভিন্ন প্রসাধনীর দোকানে গিয়ে বিক্রি-বাট্টার বিষয়ে জানতে চাইলে দোকান মালিকরা জানান, রমজানের প্রথম দিকে ক্রেতা কম থাকলেও ১২ রমজান থেকে কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং দিন যত যাচ্ছে ভিড় তত বাড়ছে।
দোকানদার সণ্টু, রেজাউল ইসলাম, ফারুক হোসেন ও সাজেদুর রহমান বলেন, ‘এখনও শতভাগ ক্রেতা আসেনি। তবে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্রেতা ইতোমধ্যে ঈদের কেনাকাটায় বাজারে এসেছেন। বিক্রি মোটামুটি আশানুরূপ হচ্ছে।’ ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি। ক্রেতা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর জন্য সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জামা-প্যান্ট, শাড়ি ও প্রয়োজনীয় পোশাক কিনেছি।’
ঈদের কেনাকাটা নিয়ে শিশুদের মধ্যেও রয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ছোট্ট সাদিয়া খাতুন (৮) জানায়, ‘আমি জামা কিনেছি। এখন স্যান্ডেল কিনব।’ আরেক ক্রেতা সাহিনা খাতুন বলেন, ‘আমার মায়ের জন্য শাড়ি, ছোট ভাই-বোনের জন্য জুতা ও স্যান্ডেল, নিজের জন্য সালোয়ার-কামিজ, স্যান্ডেল, সুগন্ধি, চুড়ি ও মেহেদি কিনেছি। সাধ্যের মধ্যে যতটা পারি কেনাকাটা করেছি।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে দর্শনার মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে। ইতোমধ্যেই ঈদের আমেজে জমজমাট হয়ে উঠেছে দর্শনার প্রধান বাজারগুলো।
