চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট : ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম
ওয়াসিম রয়েল: একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের চরম শিখরে পৌছাতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেয়। তেমনি বাংলাদেশ সরকারও শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করে চলেছে। তার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বিনামূল্যে বই দেওয়াসহ সর্বশেষ শিক্ষা ভাতা দিয়ে ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌছে দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছে। কারন একটি শিক্ষার্থীর শিক্ষার ভিত্তি হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব অপরিসীম।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে ১২টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দির্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদসহ ১৪টি পদ শুন্য রয়েছে। শুন্য পদের কারনে অত্র ইউনিয়নে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ। তার মধ্যে বেগমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০৩ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন করছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ দিয়ে ৭টি শিক্ষক পদ রয়েছে। যার মধ্যে ২টি পদ শুন্য এবং বর্তমানে ২ জন শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন ৭ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বর্তমানে ৩ জন শিক্ষকশিক্ষিকা নিয়ে ৩০৩ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
কোটালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬টি শিক্ষকশিক্ষিকার পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদসহ ২টি পদ শুন্য রয়েছে। ৭ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে শামিম হোসেন। তিনি জানান, ২৪৮জন শিক্ষার্থীকে ৪জন শিক্ষক শিক্ষা দেওয়া কষ্ট হয়ে পড়েছে। বেগমপুর বিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি শিক্ষকশিক্ষিকার পদের মধ্যে ৫ জন রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আ: জলিল জানান, ২২১জন শিক্ষার্থী রয়েছে তার বিদ্যালয়ে। যদুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি শিক্ষকশিক্ষিকা পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। ১২ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে জাকিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ২৪৮জন শিক্ষার্থীকে ৪ জন শিক্ষা দান করা কষ্ট হয়ে পড়েছে। হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি শিক্ষকশিক্ষিকার পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। ১ বছর যাবত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী নজরুল ইসলাম জানান, ২৪৩জন শিক্ষার্থীকে ৪জন শিক্ষাদান করা কষ্ট হয়ে পড়েছে।
শৈলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকলেও ১টি সহকারী শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। ২৬৩ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহন করছে। উজলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবদীন ১৯৭৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে। ২৬০জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহন করছে। রাঙ্গিয়ারপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য হওয়ায় ৭বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে সামছিল আরেফিন। ৬টি পদেও মধ্যে একটি শুন্য একজন প্রশিক্ষনে। ১৮৭জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহন করছে।
আকন্দবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিপূর্ন শিক্ষকশিক্ষিকা রয়েছে এবং ৩০৪ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহন করছে। দোস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭টি পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য ৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে জাহেদা খাতুন। ৪০২ জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহন করছে। ডিহি কৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭টি পদের মধ্যে কোন শুন্য পদ নেয়। ৪৯২জন শিক্ষার্থী রয়েছে এ বিদ্যালয়ে। কুন্দিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি পদের মধ্যে ১টি পদ শুন্য প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে আজিম উদ্দিন। এ বিদ্যালয়ে ১৯০জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬টি পদের অনুকুলে ৫ জন শিক্ষকশিক্ষিকা রয়েছে। ৪ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দ্বায়িক্ত পালনকারী প্রধান শিক্ষক আ: রাজ্জাক জানান, ৪২৯ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঝাঝরী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি শিক্ষকশিক্ষিকার পদের মধ্যে ১টি সহকারী শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ওসমান আলী জানান, ২৮০জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দান করা কষ্ট হয়ে পড়েছে।
হিজলগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ৮ জন শিক্ষকশিক্ষিকার মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য থাকায় ১০বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে সানজিদা আফরিন। সুবোধপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ ২১বছর শুন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান জানায় ১৫০জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহন করছে। বোয়ালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৪জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে প্রধান শিক্ষক পদে রয়েছে শান্তি হোসেন। তিনি জানান, পদানুযায়ী পূর্ন শিক্ষকশিক্ষিকা রয়েছে। এমতাবস্তায় সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের দৃষ্টি কামনায় স্ব স্ব এলকার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অবিভাবক শিক্ষকশিক্ষিকা ও এলাকাবাসীর দাবি এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শুন্য পদ পুরন করে প্রথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল করা। যাতে সরকারের স্বপ্ন পুরন করা যায়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হোসেন ‘সমীকরণকে’ জানায়, যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য আছে। সেগুলো সরকারি নিয়োগের মাধ্যমে পুরন করা হবে। বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে একটি শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে যোগদান করবে। তাছাড়া সরকারি নিয়ম ও ধারাবাহিকতায় ১ সপ্তাহ অথবা ২ সপ্তাহর ভিতরে সদর উপজেলার ১৮টি শুন্য পদের পদোন্নতি হবে সে ক্ষেত্রে বেগমপুর ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটি পুরন হতে পারে বলে জানান তিনি।
