ছবির ক্যাপশন:
‘সারা বাংলা ৮৮-সুখে দুঃখে পাশাপাশি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এসএসসি ৮৮ চুয়াডাঙ্গা জেলার পক্ষ থেকে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সাহিদ প্যালেসে এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আয়ারল্যান্ড প্রবাসী কাজী মোস্তাক আহমেদ ইমন। তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশপ্রেম থেকে আমি ২০১১ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হই। উদ্দেশ্য, দেশের জন্য কিছু করতে পারা। আমি দেশকে খুব ভালোবাসি। তবে এ কথা বলতে দ্বিধা নেই দেশের সিস্টেমকে আমি অপছন্দ করি। এটা আমি পরিবর্তন করতে পারব না। এটা পরিবর্তনের জন্য লাগবে রাজনীতিবিদদের। আশা করি হয়ত একদিন সেটা সুন্দর হবে। কোভিডের সময় যখন পুরো পৃথিবী স্থবির হয়ে যায়, তখন আমি চিন্তা করলাম দেশের জন্য কিছু করতে হবে। সেখান থেকেই আমাদের পথচলা শুরু। চুয়াডাঙ্গার বন্ধু ডা. মেহবুব কাদির খুব ভালো কাজ করে। তাছাড়া শুরু থেকেই চুয়াডাঙ্গার প্রতি আলাদা ভালোবাসা ছিল। কারণ আমি পাশের জেলা ঝিনাইদহ ক্যাডেটে পড়ালেখা করেছি এসএসসি এবং ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওখান থেকে অস্ট্রেলিয়া। তারপর আয়ারল্যান্ড। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় দুটি প্রফেশন দিয়ে সমাজসেবা করা যায়, দেশের সেবা করা যায়। একটি হচ্ছে ডাক্তার এবং অপরটি হচ্ছে রাজনীতি। তবে ভালো রাজনীতিবিদ হতে হবে।
সারা বাংলা এসএসসি ৮৮ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্যানেল সভাপতি বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সায়ীদ মেহবুব-উল কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ব্যবসায়ী সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিক। তিনি সারা বাংলা ৮৮ সংগঠনের সম্মৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ‘আমার কাছ থেকে যদি কোনো ধরণের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমি করব। কারণ আমি শুনেছি এরা অনেক সেবামূলক ভালো ভালো কাজ করে।’
সারা বাংলা ৮৮’র বন্ধু চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে আমি এই সংগঠনের পিছনে সময় দিতে পারি না। ডা. মেহবুব কাদির অনেক পরিশ্রম করে। তার কারণেই সংগঠনটি এগিয়ে যাচ্ছে। আমি চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, এই সংগঠনের মাধ্যমে সেবামূলক উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ করব ইনশাল্লাহ।’
এসএসসি ৮৮ ব্যাচের আলমডাঙ্গার বন্ধু এমদাদুল হকের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা থেকে আগত সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ শান্তি রঞ্জন দে (সানি), সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হোসাইন সোহেল, যুগ্মমহাসচিব বিপু চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, বৃহত্তর ঢাকা জেলা কো-অর্ডিনেটর হারুন রশীদ, কেন্দ্রীয় মডারেটর সহকারী অধ্যাপক লাবন্য মারু, মডারেটর একে আজাদ ও দিনাজপুর জেলা কো-অর্ডিনেটর সাইদ আজাদুর রহমান বিপু।
সারা বাংলা ৮৮ চুয়াডাঙ্গার বন্ধুদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন ডা. ওয়ালিয়ার রহমান নয়ন, জীবননগরের বন্ধু সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বাবু, দামুড়হুদার বন্ধু সিনিয়র সাংবাদিক বখতিয়ার হোসেন বকুল, আলডাঙ্গার বন্ধু খন্দকার হাবীবুল করীম চঞ্চলসহ অনেকে। উপস্থিত ছিলেন ৮৮ বন্ধু একরামুল হক, আশাদুল আলম শাহীন, শারমিন দিলারা, নুরুন্নাহার পরী, এমদাদুল হক, আতিয়ার রহমান, তারিকুজ্জামান, আব্দুল মোমিন, জহির উদ্দীন মেম্বার, আব্দুল মমিন মাস্টার, আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্কুলব্যাগ উপহার দেয়া হয়। এছাড়া চুয়াডাঙ্গাস্থ একটি হেফজখানার ৫০ জন এতিমদের জন্য খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সারা বাংলা ৮৮ চুয়াডাঙ্গার বন্ধু চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মহসিন আলী।
