নির্বাচনমুখী দেশ, আজ-কালই তফসিল

প্রস্তুত ইসি, ভোটের কার্যক্রম ছাড়া ‘নিয়ন্ত্রিত’ থাকছে সব

আপলোড তারিখঃ 2025-12-10 ইং
নির্বাচনমুখী দেশ, আজ-কালই তফসিল ছবির ক্যাপশন:

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচনী ট্রেনের যাত্রা শুরু হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের তফসিল ঘোষণার রেকর্ডও সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে এরইমধ্যে সাক্ষাৎও সেরে নিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। আজ বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর যে কোনো সময়ই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভোট যাত্রায় শামিল হচ্ছে দেশ। নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।


তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তফসিল ঘোষণার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে ইসি। আসন বিন্যাস, আইন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যারা থাকবেন তাদের প্রজ্ঞাপন, বিভিন্ন বিষয়ে ২০টির মতো পরিপত্র জারি হবে। সেখানে মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়োগ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল গঠন, আইন-শৃঙ্খলার সেল গঠন এগুলোর ফরমেটগুলো রেডি রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর পর সেগুলো ধারাবাহিকভাবে জারি করা হবে বলে জানান এই কমিশনার। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ ভোটে অংশ নিতে পারেন বলে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। এমনকি তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে তাদের সরকার থেকে পদত্যাগেরও আভাস পাওয়া গেছে। সরকারের পদে থেকে কেউ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি ভোটের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারের পদে থেকে নির্বাচনী প্রচার করা যাবে না। প্রচার করা না গেলে তো প্রার্থীও হতে পারবেন না। কাজেই সরকারের কোনো পদে থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রাহমানেল মাছউদ বলেন, তফসিল ঘোষণার ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা হবে। এতে রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইসির দায়িত্ব নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব আসবে তফসিল ঘোষণার পর। চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত কোনো দলের প্রতীক থাকবে না।


সরকারের পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না:
সরকারের পদে থেকে কেউ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি ভোটের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ ভোটে অংশ নিতে পারেন বলে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। এমনকি তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে তাদের সরকার থেকে পদত্যাগেরও আভাস পাওয়া গেছে। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারের পদে থেকে নির্বাচনী প্রচার করা যাবে না। প্রচার করা না গেলে তো প্রার্থীও হতে পারবেন না। কাজেই সরকারের কোনো পদে থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।


ভোটের কার্যক্রম ছাড়া নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সব:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে ভোটের কার্যক্রম ছাড়া সব ধরনের সভা, সমাবেশ, আন্দোলন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা এসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের (অর্ডিন্যান্স নং-ওও৩/৭৬) ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২ এর প্রবেশ গেট, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সম্মুখে সব প্রকার সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হলো।


কঠোর হচ্ছে সরকার:
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, আন্দোলন পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিকালে প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এ তথ্য জানান। বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- বর্তমানে এটিই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেদিকেই মনোনিবেশ করছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য এরই মধ্যেই রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জানি, অনেকেরই ন্যায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংগঠিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন।’

ইসিকে সহযোগিতা দেবে বিচার প্রশাসন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ নিয়োজিত করার অনুরোধ করতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’


ইসির যত প্রস্তুতি:

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রস্তুতিমূলক কাজই সম্পন্ন করা হয়েছে। সংলাপ, আইনি সংস্কার, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ, ভোট কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন শেষ হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। একই ভোটারের দুটি ব্যালটে ভোট দেয়া নিশ্চিত করতে ইসির বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোটকক্ষের গোপন কক্ষ বৃদ্ধি এবং ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো নিয়েও চলছে আলোচনা। ইতোমধ্যে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। দুটি ব্যালটে ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়লেও ভোটকক্ষ বা বুথের সংখ্যা প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে, যা ২ লাখেরও বেশি হতে পারে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন যুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক হাজার ২৩৪ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। পুরুষ ভোটার দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন। আর নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। এছাড়া নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, বিশেষ করে ব্যালট পেপার, নির্বাচনের আইন ও বিধি সংক্রান্ত নথিপত্র এবং অন্যান্য মুদ্রণসামগ্রীর চাহিদা নিরূপণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী সামগ্রী ছাপানো প্রায় শেষ। এখন কেবল ব্যালট পেপার ছাপানো বাকি রয়েছে। এবারই প্রথম উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া তিন ক্যাটাগরির (আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, ভোটের দায়িত্বে থাকা ও সরকারি কর্মচারীরা) ব্যক্তিরা এই সুযোগ নিতে পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬২১ জন প্রবাসী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে দেশের তিন ক্যাটাগরির ভোটাররাও নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)