ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের দ্বিতীয়তলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৯টায় ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহিদুল হক। এসময় পরিচালনা কমিটির অপর দুই কমিশনার হানিফ উদ্দিন ও ছরেয়ারা হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ১০টি পদে জয়লাভ করেছে ও ফোরামের বিদ্রোহী প্রার্থী সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন। আর জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ইয়াস কাউন্সিলের ৩ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন এবং সহসভাপতি পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতিসহ নির্বাচিত সকলকেই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে মারুফ সারোয়ার বাবু ১১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সহসভাপতি পদে আকসিজুল ইসলাম রতন ১১০ ভোট ও মোর্তজান হোসেন ৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে খন্দকার অহিদুল আলম (মানি খন্দকার) ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম সম্পাদক পদে আফরুজা আকতার (১৫৭) ভোট ও হারুনর রশিদ বাবলু ১২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে রুবিনা পারভীন রুমা ১১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সদস্য পদে মুহাম্মদ ইকরামুল হক ১৪৩ ভোট, ফরজ আলী ১৪২ ভোট, আশিকুর রহমান রাজ ১৩৫ ভোট, তানভীর আহম্মদ শাওন ১৩৫ ভোট, শরিফুল ইসলাম ১২৪ ভোট ও রাগিব আহসান ১০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে, কোষাধ্যক্ষ পদে এস.এন.এ হাশেমী এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আতিয়ার রহমান (২) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া নির্বাচনে সভাপতি পদে মোসলেম উদ্দীন ৪০ ভোট, সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম ২০ ভোট ও আকরাম হোসেন ১৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। সহসভাপতি পদে আব্দুল্লা আল মামুন ৮৭ ও সিরাজুল ইসলাম ৬৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে আহসান আলী ৭১ ভোট, আসাদুজ্জামান আসাদ ৩৮ ভোট ও আনছার আলী (২) ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। যুগ্ম সম্পাদক পদে মসিউর রহমান পারভেজ ৯২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে আমজাদ আলী শাহ ৭১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। সদস্য পদে হাসিবুল ইসলাম ইব্রাহিম ১০৭, সৈয়দ ফারুক উদ্দিন আহমেদ ১০৬, বেলাল হোসাইন বাদল ৯৭ ও মো. আক্তারুজ্জামান ৮৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে মোট ২০৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৯৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ১১টি ভোট বাতিল হয়েছে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মারুফ সারোয়ার বাবু বলেন, ‘আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যের প্রতি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। বার ও বেঞ্চ পরিচালনায় সকল আইনজীবীর সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে আগামী দিনে কাজ করা হবে।’ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক আ.স.ম. আব্দুর রউফ বলেন, ‘আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে যেসকল ভোটাররা ফোরামের সদস্যদের নির্বাচিত করেছেন, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বারের সার্বিক উন্নয়ন এবং আইনজীবীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসাথে কাজ করার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।’
চুয়াডাঙ্গা বারের সাবেক সভাপতি ও ফোরামের সাবেক সভাপতি এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন। এসময় বারের সার্বিক কাজ একসাথে করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা জেলা দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ ও সদস্যসচিব সুমন পারভেজ খান বলেন, আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতিসহ সকল সদস্যকে জনাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাদের আগামী দিনের পথচলা সুন্দর হোক।
