আদালতের রায়ে সন্তানের দায়িত্ব পেলেন আলীম-ডলি দম্পত্তি

আপলোড তারিখঃ 2017-11-09 ইং
আদালতের রায়ে সন্তানের দায়িত্ব পেলেন আলীম-ডলি দম্পত্তি ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ফেলে যাওয়া সেই কন্যা শিশুটির ভাগ্য নির্ধারণ নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহ খানেক আগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ওই প্রসবের পর ফেলে রেখে যাওয়া শিশুটির ভাগ্য নির্ধারণ করে নতুন ঠিকানার সন্ধান দিয়েছে আদালত। বহুল প্রতিক্ষার পর তার আপন ঠিকানা নির্ধারণ করা হয়েছে জেলা পুলিশের এসআই আব্দুল আলিমের ঘর। জান্নাতুল ফেরদৌসির (ডলি) কোল আলো করে বেড়ে উঠবে ফুটফুটে কন্যা সন্তানটি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে এক কিশোরী নিজেকে সাথী পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। পরের রাতেই ওই শিক্ষার্থী হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। অজ্ঞাত কারণ বশত পরদিন ভোরে ওই প্রসূতি তার সন্তানকে হাসপাতালে ফেলে রেখে সটকে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় গুরুত্বসহকারে সংবাদ প্রকাশিত হলে ডজন খানেক দম্পত্তি এগিয়ে আসে সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে আবেদন করে সন্তান দত্তক নিতে ইচ্ছুক তিন দম্পত্তি। পরে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই শিশুটিকে সমাজ সেবার তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর করেন। ওইদিন চুয়াডাঙ্গা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার বশির আহম্মেদ তিন জনের আবেদন নিয়ে উদ্ধারকৃত শিশুটির একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। গত রবিবার চুয়াডাঙ্গা শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আদালতে ওই শিশুকে দত্তক নেওয়ার জন্য তিন দম্পতির আবেদন আমলে নিয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। তবে সেদিন দাখিলকৃত কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় বুধবার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। গতকাল বুধবার বিকাল ৩টায় শুনানির নির্ধারিত দিনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ শাহানাজ সুলতানা প্রায় দুই ঘন্টা ধরে উভয়পক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। পরে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদন করা তিনটি দম্পতির মধ্যে দুই দম্পতি নিঃসন্তান। এমন একটি দূর্লভ মানবিক বাস্তবতার মুখে রায় দিতে বিচারক অনেকটা ভেঙে পড়েন। আদালতের এমন পর্যবেক্ষণের পর আব্দুল জব্বার-সুলতানা ও নাঈম-সীমা দম্পতি তাদের আবেদন প্রত্যাহার করেন। ফলে যোগ্য পিতা-মাতা হিসেবে বিচারিক আদালত আব্দুল আলিম-জান্নাতুল ফেরদৌসী দম্পতিকে ওই শিশুকে লালন পালনের দায়িত্ব দেন। আদালত তার রায়ে আরো উল্লেখ করেন, শিশুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালন পালনের পাশাপাশি তার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা বীমা, ব্যাংক ডিপোজিট ও কিছু জমিজামা তার নামে দিতে হবে। প্রতি ৬ মাস পর পর সমাজ সেবা অধিদপ্তরে ওই শিশুর সার্বিক অবস্থা জানিয়ে রিপোর্ট করতে হবে। আদালতের রায়ের পর আব্দুল আলিম-জান্নাতুল ফেরদৌসী দম্পতি তাদের অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, ‘বিয়ের ৫ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তারা নিঃসন্তান ছিলেন। দেশে-বিদেশে অনেক চিকিৎসা করিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় শিশু কন্যাকে পেয়ে তারা বেজায় খুশি। আজ বৃহস্পতিবার শিশুটিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করার পর সে খুশির জোয়ার আরো বাড়বে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)