ইসলামী দলগুলোর আন্দোলনের জবাবে পাল্টা কৌশলে বিএনপি

ভোটের আবহ তৈরিতে ঘরে ঘরে যাবে দলটি

আপলোড তারিখঃ 2025-09-17 ইং
ইসলামী দলগুলোর আন্দোলনের জবাবে পাল্টা কৌশলে বিএনপি ছবির ক্যাপশন:

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর নিয়ে জামায়াতসহ ইসলামী কয়েকটি দলের কর্মসূচি ঘোষণার পর পাল্টা কৌশল নিয়ে তৎপর হচ্ছে বিএনপি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে- এমনটি ধরে সারা দেশে ভোটের আবহ সৃষ্টি করতে চাইছে দলটি। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ইতিমধ্যে জনগণের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জনগণকে নির্বাচনমুখী করতে মানুষের ঘরে ঘরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন নেতারা। এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি ব্যাপক পরিসরে দলের নারী নেতা-কর্মীদেরও সম্পৃক্ত করা হবে। একইসঙ্গে বিএনপি’র সমমনা দলগুলো যাতে অন্য কোনো জোটের ফাঁদে পা না দেয় সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নেতাদের। 


নির্বাচন-পূর্ব এই প্রচার প্রচারণায় দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের লড়াই-সংগ্রামের বিষয়গুলো জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ৩১ দফার ভিত্তিতে যে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে সেই বিষয়টিও মানুষকে অবহিত করা হবে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


বৈঠকে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে সামনে প্রায় পাঁচ মাসের মতো সময় বাকি রয়েছে। এখন দলকে পুরোপুরি নির্বাচনমুখী করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজ শেষ করতে হবে। নেতা-কর্মীদের নির্বাচনমুখী করতে হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন ৩১ দফার আলোকেই করা হচ্ছে বলে নীতি নির্ধারক নেতারা জানিয়েছেন। এছাড়া আগামী নির্বাচনে প্রতিটি আসনে দলীয় একক প্রার্থী দেয়া হবে। দলের প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সবাই প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এই কর্মসূচিতে কেন্দ্র করে যাতে নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব না হয়, কোনো গ্রুপিং সৃষ্টি না হয়-সেজন্য কেন্দ্র থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 


সূত্র জানায়, বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের মাধ্যমে জামায়াতসহ কয়েকটি ইসলামী দল মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিও আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে চায় যাতে ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশ  তৈরি হয়। এরই অংশ হিসেবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীসহ সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জনসম্পৃক্ততামূলক কাজের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিএনপি আগামীতে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়, এ ব্যাপারে দলের প্রতিশ্রুতি আছে। জনগণ সেটা যাতে বোঝে এবং তাদের সামনে দৃশ্যমান হয়, সেই ধরনের কাজগুলো আগামীতে অব্যাহত রাখতে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। নেতাদের ভাষ্য, জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। বিএনপি’র পক্ষ থেকেও বারবার এই আলোচনা প্রয়োজনে দল টু দল করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সেসব আমলে না নিয়ে জামায়াতসহ কয়েকটি ইসলামী দল জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং পিআর নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। যেহেতু বিএনপি ক্ষমতায় নেই, তাই অন্তর্র্বতী সরকারকেই এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।


বৈঠক সূত্র জানায়, ৫ই আগস্টের পর সারা দেশে দখল ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে নাম আসা নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দলের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা। যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাদের স্বপদে ফিরিয়ে এনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। দ্রুত সাংগঠিক ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে সারা দেশে সংগঠনে একটা শৃঙ্খলা এসেছে বলেও মনে করছেন নেতারা।


বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা। এই নির্বাচনগুলো জাতীয় নির্বাচনে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন নেতারা। এই দুটি নির্বাচনে কী কারণে এমন হলো তা অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে। এছাড়া বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেতারা বলেন, বৈঠকে সর্বশেষ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা বিষয়বস্তু এবং সিদ্ধান্ত অবহিত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।


অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচির জবাবে বিএনপি রাজপথেই দেবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল দুপুরে গুলশানে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল তার গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মাঠে যেতে পারে, রাজপথে যেতে পারে, জনগণের সামনে যেতে পারে। আমরা সেটার (দাবির) বিপক্ষে। আমাদের যে বক্তব্য আমরাও সেটা মাঠে দেবো, জনগণের সামনে দেবো, মাঠের জবাব আমরা মাঠেই দেবো, জনগণ যেটা গ্রহণ করবে সেটা দেখা যাবে। 


পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি’র অবস্থান আবার পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে উচ্চ-নিম্নকক্ষ সর্বত্র। কারণ আমরা বলেছি, যাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে পিআর পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য, তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সেই বিষয়টা উল্লেখ করে জনগণের কাছে যাক। জনগণের ম্যান্ডেট যদি তারা প্রাপ্ত হয় তাহলে তারা তাদের সেই রাজনৈতিক আদর্শ বা কৌশল তখন তারা প্রণয়ন করতে পারবে, আইন প্রণয়ন করতে পারবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)