উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতি:

ঐকমত্যে অগ্রগতি, বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা

আপলোড তারিখঃ 2025-08-02 ইং
উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতি: ছবির ক্যাপশন:

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত-আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন-বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে এক যুগান্তকারী প্রস্তাব। দীর্ঘ পাঁচ মাসব্যাপী ৭০টির বেশি বৈঠকের মাধ্যমে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এতে যে সর্বসম্মত ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। বিশেষত বিএনপিসহ কয়েকটি দল স্পষ্টতই এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে।


বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশে পিআর পদ্ধতি অনেক দেশে কার‌্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এতে জনপ্রতিনিধিত্ব আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং ছোট দলগুলোরও সংসদে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন একটি পদ্ধতি কতটা বাস্তবসম্মত ও কার‌্যকর হবে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক। বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট জোটের আপত্তি-উচ্চকক্ষের নির্বাচনী পদ্ধতি ও ক্ষমতা সীমাবদ্ধতার প্রশ্নে-সেটি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তাদের দাবি, উচ্চকক্ষকে শুধু পর‌্যালোচনার ভূমিকা দিয়ে একটি নতুন কাঠামো তৈরি করলেও কার‌্যকর প্রতিফলন ঘটবে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ও দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
একইসঙ্গে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। এ প্রক্রিয়ায় কমিশন ‘অনুঘটক’ হিসেবে কাজ করলেও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের দায় রাজনীতিকদের কাঁধে বর্তানো হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা এই বাস্তবায়ন কাঠামোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষত জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি ডা. তাহেরের বক্তব্য-‘আইনি ভিত্তি না থাকলে সনদ মূল্যহীন’-এই দুশ্চিন্তাকে জোরালো করে।


অন্যদিকে, পিএসসি, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল, এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে মৌলিক সংস্কারে যেসব আপত্তি এসেছে, তা স্পষ্ট করে দেয় যে, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা গভীর এবং কাঠামোগত। কেউ সংবিধানে সুনির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্তির পক্ষে, কেউবা আলাদা আইন প্রণয়নের পক্ষে। তবুও এই উদ্যোগকে গণতন্ত্রের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলা যায়। আলোচনা ও ভিন্নমত থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর‌্য। কিন্তু এসব আলোচনা কেবল নথিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সক্রিয় নজরদারি অপরিহার‌্য। অন্যথায়, এ উদ্যোগও রয়ে যাবে আরও একটি ‘সনদ’, যেটি বাস্তবতা স্পর্শ করতে ব্যর্থ। বাস্তবায়নই হবে এই সংস্কার প্রচেষ্টার একমাত্র মানদ-।


সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)