ছবির ক্যাপশন:
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা নির্বাচনকে এক প্রহসনে পরিণত করেন। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ- এমনকি পেশাজীবী সংগঠনেও নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে। ভোট কারচুপি, দিনের ভোট রাতে আর ডামি নির্বাচনে কে জিতবেন, কাকে হারানো হবে তা ছিল পূর্বনির্ধারিত। ফলে ভোটের প্রতি নাগরিকদের সৃষ্টি হয় অনীহা। দেখা যেত, ভোটের দিন কেন্দ্র ফাঁকা পড়ে আছে। অথচ হাসিনা আমলের আগে দেশে নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর। নির্বাচন মানে অনিশ্চয়তা হওয়ায় কে জিতবেন, কে হারবেন তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা জমানায় ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে এই যে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছিল, তাতে আমাদের দেশে গণতন্ত্রের জন্য বয়ে আনে এক অশনিসঙ্কেত। এতে মানুষের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের উপায় নিঃশেষিত হয়ে যায়। ২০০৯ সালে এক-এগারোর সরকারের কারসাজিতে এবং বিদেশী শক্তির যোগসাজশে হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেন। এরপর তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করতে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সর্বজন গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিল করেন, যার মধ্য দিয়ে দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ রুদ্ধ হয়। তখন থেকে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সব বিরোধী দলের দাবি ছিল- কোনো দলীয় নয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা কারো কথায় কর্ণপাত না করে পরপর তিনটি ভুয়া নির্বাচনের আয়োজন করে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন। এর মধ্যে দু'টি নির্বাচন বিরোধী দলবিহীন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর একটি রাতে ব্যালটবাক্স পূর্ণ করে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করা হয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনে বাংলাদেশে আবারো অর্থবহ নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে এসেছে। সঙ্গত কারণে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনসেবার সুযোগ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। জনগণও ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে চলছে তুমুল আলোচনা। নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন করার প্রাথমিক লক্ষ্য ঠিক করে এগোচ্ছে অন্তর্র্বতী সরকার। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করা হলেও 'অহেতুক' দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো বাসনা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেই। গণ-অভ্যুথের পর দেশের টালমাটাল পরিবেশে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্র্বতী সরকারের দায়িত্ব নেন। এমন একটি অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা ও আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন ছিল। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই অরাজক পরিবেশ সামাল দেয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো চব্বিশের গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের যে জন-অভিপ্রায় আছে; তা ন্যূনতম পূরণ করা। পাশাপাশি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা। আমরা বিশ্বাস করি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে সম্পন্নের চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করবে ড. ইউনূসের অন্তর্র্বতী সরকার। এ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে জনগণের মধ্যেও যেন কোনো প্রকার সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি না হয় সে বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখবে।
