ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, সরোজগঞ্জ:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় পিতা-মাতার ওপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে সাফিদ আহদেদ সাম্য (১৯) নামে এক যুবক। গত শনিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। সাম্য জালশুকা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ও মাগুরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজির পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র।
জানা গেছে, সাম্য সম্প্রতি পরিবারের কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু পরিবারের কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য ছেলের কাছে দুই মাস সময়ও নিয়েছিলো সাম্যর বাবা। কিন্ত ছুটি শেষে মাগুরায় ফেরার আগেই মোটরসাইকেল চায় সাম্য। এ নিয়ে বকাঝকা করলে অভিমান করে বসে সাম্য। স্থানীয়দের ধারণা, মানসিক চাপ থেকে অভিমান করে আত্মঘাতী হয়েছেন সাম্য। এদিকে, খবর পেয়ে গতকাল সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সদর থানার এসআই মো. বাবলু হোসেন।
নিহত সাম্যর বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সাম্য ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলো। দুই ভাইয়ের মধ্যে ওই ছিল বড়। ঈদের দিন থেকেই মোটরসাইকেল চেয়ে বায়না ধরেছিলো। আমি বলেছিলাম, ‘দুই-তিন মাস পর কিনে দেব।’ আমার সব আশা-ভরসা ছিল ওর ওপর। ঘর নির্মাণের সময়ও গাড়ি কিনে দিতে বলেছিলো সে।’
তিনি আরেও বলেন, ‘প্রতিদেনের ন্যায় শনিবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ছেলের সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ঘুমাওনি?’ ও বলেছিলো, ‘ঘুমাইনি। এরপর আমি বলি, ‘ঘুমাও’ সকালে কল দেব। ওটাই ছিল শেষ কথা। সকালে হঠাৎ খবর পাই, আমার সাম্য গলায় ফাঁস দিয়েছে।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করে ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’ এদিকে, গতকাল আছরের নামাজের পর জালশুকা গ্রাম্য কবরস্থানে সাম্যর দাফন কার্য সম্পন্ন করে পরিবার।
