ছবির ক্যাপশন:
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে গতকাল শনিবার আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে উদ্বোধন, র্যালি, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ধূমপান একটি নেশা নয়, এটি এক ধরনের ভালোবাসা ও মায়াজাল। শিশুদের চোখে বড়দের ধূমপান একটি স্বাভাবিক কাজ বলে মনে হয়, ফলে পরিবার থেকেই এর বীজ বপন হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিশুদের দিয়ে সিগারেট আনানো ও আগুন ধরানো খুবই ভয়ানক। নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ধূমপান বন্ধ করলে ধীরে ধীরে বুঝা যায় এর ভয়াবহতা।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) শারমিন আক্তার। অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মওলা, চুয়াডাঙ্গা সদরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, এনজিও প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেন, শিক্ষার্থী সাকিব প্রমুখ। শুরুতে বেলুন উড়িয়ে আলোচনাসহ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ অতিথিবৃন্দ। পরে একটি র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম, সহকারী কমিশনার নাঈমা জাহান সুমাইয়া, এএসএম আব্দুর রউফ শিবলু, নুরুল হুদা মনির, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ মোমতাজ, সহকারী কমিশনার আলাউদ্দীন আল আজাদ, ফাহাদ চৌধুরী, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বদরুল আলম প্রমুখ। আলোচনা শেষে তামাকবিরোধী রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে র্যালি, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তামাক শুধু স্বাস্থ্য নয়, ব্যক্তি ও পারিবারিক অর্থনীতিরও ক্ষতি করে। তামাকের ক্ষতির হাত থেকে যুবসমাজ ও শিশুদের রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নিজে তামাক ছাড়লেই হবে না, অন্যতেও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আলী আজগর, কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ মাহমুদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, প্রকৌশলী তৌহিদ মাহমুদ, শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত।
আরোও বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন, প্রভাষক আব্দুল মালেক, সুরাইয়া জেসমিন, হাফেজ ওমর ফারুক, ছাত্রপ্রতিনিধি রাকিব মাহমুদ, আরাফাত রহমান, পার্থিব হাসান, শারণ। রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে আলমডাঙ্গা অ্যাকাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম আদনাস, দ্বিতীয় হয় কানিজ সুলতানা কথা, তৃতীয় খন্দকার নাসিম।
সভায় বক্তারা বলেন, তামাক জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং তাপ্রতিরোধে আইন বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
