চুয়াডাঙ্গায় চুরির অভিযোগে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে বেধে নির্যাতন : আটক ৩

আপলোড তারিখঃ 2017-10-15 ইং
চুয়াডাঙ্গায় চুরির অভিযোগে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে বেধে নির্যাতন : আটক ৩ ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার ইসলামপাড়ার শ্রমিক হালকা বুদ্ধির জুমাত পাগলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। শহরের শেকড়াতলাপাড়ায় বাড়িতে বেধে রেখে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শেকরাতলার মোড়ের মারুফ ও তার বাবা-মাসহ কয়েকজন মিলে নির্যাতন চালায়। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ রাতে নির্যাতনকারী মারুফ, তার বাব জসিম ও মা রিনাকে আটক করে থানায় নেয়। জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার মৃত রব্বানি মন্ডলের ছেলে কাঠ চলা করা শ্রমিক জুমাত পাগল বিভিন্ন মানুষের বাড়ি বাড়ি কাঠ চলা করে জীবিকা নির্বাহ করে। কয়েক দিন আগে শেকরাতলাপাড়ার জসিম উদ্দীনের বাড়ি কাঠ চলা করতে যায়। পরে জসিম উদ্দীনের স্ত্রী রিনা বেগম অভিযোগ করেন তার বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি সোনার গয়না চুরি হয়ে গিয়েছে। বিষয়টা সে সময় মিটমাট হয়ে গেলেও গতকাল পৌর কলেজপাড়ার জয়নালের বাড়ি কাঠ কেটে দুপর ৩টার দিকে বাড়ি আসে জুমাত। বিকালে কাজের টাকা আনতে গেলে জসিম উদ্দীনের ছেলে চুয়াডাঙ্গা আল আরাফা ব্যাংকের পিয়ন মারুফ ও তার লোকজন জুমাতকে আটক করে। পরে টাকা ও গয়না চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এরপর জুমাতকে ধরে শেকরাতলার মোড়ে মারুফের বাড়িতে এনে দড়ি দিয়ে বেধে অমানুষিক নির্যাতন চালায় পুরো পরিবারের লোকজন। পরে দৌলতদিয়ার দক্ষিনপাড়ার ভাড়াবাড়ি থেকে জুমাতের স্ত্রী অনুরা বেগমকে তুলে নিয়ে যায় শেকরাতলা মোড় এলাকার আবদুল্লা’র ছেলে ফরজ, শিপনের ছেলে মামুনসহ কয়েকজন। এসময় তাকে স্বামীর চুরির অপবাদ স্বীকার করতে বলা হয়। এদিকে, ঘটনা জনাজানি হলে এলাকার লোকজন শেকরাতলাপাড়ায় জসিম উদ্দীনের বাড়িতে উপস্থিত হয়। তারা জুমাতের উপর অমানুষিক নির্যাতন বন্ধ করতে অনুরোধ করে। এক পর্যায় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে জুমাতকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। সাথসাথে নির্যাতনকারী মারুফ (২৬) তার পিতা জসিম উদ্দীন (৫০) ও তার মা রিনা বেগমকে (৪০) আটক করে থানা হেফাজতে নেয়। একই সাথে নির্যাতনের শিকার জুমাত পাগলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল পাঠানো হয়। দৌলতদিয়াড়ের বাসিন্দারা জানায়, জুমাত পাগল কাঠ চলা করে কোনরকমে সংসার চালায়। টাকা পয়সা গুনে বুঝে আনতেও পারেনা। তার স্ত্রী পরে কাজের জায়গা থেকে কাঠ ওজন করে প্যাপ্য মজুরি নিয়ে আসে। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের দাবী এর সুষ্ঠু বিচার করা দরকার। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হক বলেন, কেই যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে তার জন্য পুলিশ আছে, আইন আছে। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে পারবে না। জুমাত যদি চুরি করে থাকে তাহলে তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে বেঁধে মারপিট করা অন্যায়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)