ছবির ক্যাপশন:
আজ জামায়াত ডাকা হরতাল হবে নিরুত্তাপ
সমীকরণ ডেস্ক: দলের আমির মকবুল আহমাদসহ আট শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতারর ও রিমান্ডের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। গত মঙ্গলবার রাতে ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বলে দলের প্রচার বিভাগের পক্ষে এম আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দলের আমির, সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ১৪ জন নেতা কারাগারে গেলেও রাজপথে সক্রিয় কর্মসূচি থেকে বিরত থাকছে জামায়াতে ইসলামী। শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার (১১ অক্টোবর) বিক্ষোভ থাকলেও নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিলোনা। এর রেশ দেখা যেতে পারে বৃহস্পতিবারের (১২ অক্টোবর) সকাল-সন্ধ্যা হরতালেও। তাই সারাদেশে হরতাল হবে নিরুত্তাপ। তবে দলের নতুন দায়িত্বে যারা এসেছেন, তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সন্তুষ্টি রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।
গত দু’দিনে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হলেও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি জামায়াতকে। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোতে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব নিয়োগ করা নিয়ে নানা জটিলতা থাকলেও জামায়াতে ইসলামী মাত্র একদিনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল পদে কোনও ঝামেলা ছাড়াই নিয়োগ দিতে পেরেছে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার একাধিক সদস্য জানান, পদের ধারাবাহিকতা থাকায় নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা হয় কম। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ বা কেন্দ্রীয় কমিটির সিরিয়াল অনুযায়ী নতুন ভারপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সাবেক সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিতও। রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি আছে। আর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম সাংগঠনিকভাবে পরিচিত এবং দক্ষ। রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি না থাকলেও সংগঠক হিসেবে দলে যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জামায়াতের প্রধান নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কয়েকটি এলাকার কয়েকজন জামায়াত নেতারা জানান, শীর্ষনেতারা গ্রেফতার হওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে একটি হরতাল দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাজপথে আন্দোলন যা হবে তার চেয়ে দলের কার্যক্রম সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকেই থাকবে। নেতাদের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। জামায়াত ও সাবেক শিবিরের নেতারা অযথা শক্তিক্ষয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দলটির বিভিন্ন সূত্রের খবর, নির্বাচনকালীন সরকার-ব্যবস্থার সুরাহা হওয়ার আগে আর রাজপথে নামছে না জামায়াত। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্যরা জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও পেশাজীবীদের মধ্যে দলীয় কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। প্রায় শেষ হতে যাওয়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার ‘অধিবেশনে’ দেওয়া সদস্যদের অভিমতের ভিত্তিতে তৈরি বার্ষিক পরিকল্পনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট, ফেনী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্যরা ‘অধিবেশন ও সিদ্ধান্ত’ নিয়ে কথা বললেও তারা নিজেদের পরিচয় ও নাম উদ্ধৃত করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে শীর্ষ দায়িত্বশীলদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
শুরার একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় ৫০টি আসনে প্রার্থিতার বিষয়ে প্রাথমিক চিন্তা থাকলেও শেষপর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই আসন চূড়ান্ত হবে। সংগঠনের অর্থনৈতিক বিষয় দেখভাল করে একটি কেন্দ্রীয় টিম।
গত ১০ অক্টোবর নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘আমি জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তিকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান জানাচ্ছি।`
সূত্র জানায়, আগামী ১৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবে বিএনপি। ইসিতে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলীয় পরামর্শ বিএনপিকে লিখিতভাবে দেওয়ার কথা শোনা গেলেও আপাতত সেদিকে যাচ্ছে না জামায়াত।
যদিও বরাবরের মতো প্রচার বিভাগের দায়িত্বশীল অধ্যাপক তাসনীম আলম ও সহকারী প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমানের আকন্দের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
