দর্শনার কেরুতে শ্রমিক-কর্মচারী নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা

আপলোড তারিখঃ 2025-02-20 ইং
দর্শনার কেরুতে শ্রমিক-কর্মচারী নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা ছবির ক্যাপশন:

দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভোটের তফশিল ঘোষণার আগে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এক কর্মচারীকে আকস্মিকভাবে পঞ্চগড়ে বদলি করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তফশিল ঘোষণা স্থগিত করলেও শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়ে গেছে। এরই মধ্যে কারখানায় তিন দিনে ছয়টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে। শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এসব ঘটানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, তফশিল ঘোষণার দিনই প্রার্থী বদলি, তফশিল স্থগিত এবং পরবর্তী বোমা উদ্ধারের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।

শ্রমিকরা জানান, কেরু একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। নির্বাচনের সময় কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়, ফলে ইউনিয়নের কর্তৃত্ব হারাতে চায় না কেউ। দীর্ঘদিন কেরু কারখানা স্থানীয় সাবেক এমপি আলী আজগার টগর ও তাঁর অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় ওয়্যার হাউসের ইনচার্জ সৌমিক হাসান রূপমকে বদলির মাধ্যমে। তাঁর বাবা মাসুদুর রহমান কেরুর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং অবসরের পর ছেলেকে এই পদে এগিয়ে দিচ্ছিলেন। রূপমের অনুসারীরা দাবি করছেন, তাঁকে নির্বাচন থেকে সরাতেই পরিকল্পিতভাবে বদলি করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি তফশিল ঘোষণার কথা থাকলেও পরে তা ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই রূপমকে বদলি করা হলে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রমিক নেতা ও মিল কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন সাময়িক স্থগিত করা হয়, যেখানে সব পক্ষই সম্মতি দেয়। এরপর থেকেই একের পর এক বোমা উদ্ধার হতে থাকে, যা শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এদিে রূপম দাবি করেন, জনপ্রিয়তার কারণে এবং নির্বাচন থেকে বিরত রাখতেই ষড়যন্ত্র করে তাকে বদলি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে দুজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী তৈয়ব আলী ও বর্তমান সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ। আর রুপমের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার কথা জয়নাল আবেদিন নফর ও হাফিজুর রহমানের। তারা সবাই আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি টগরের অনুগত। রুপমের বাবার সঙ্গে বিরোধ আছে তৈয়ব আলীসহ কয়েকজনের।

শ্রমিক নেতারা জানান, কেরুর ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ যারা নেয়, তারাই মূলত কারখানার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বদলি তদবির, নিয়োগ বাণিজ্য, মৌসুমি শ্রমিক নিয়োগ, কেনাকাটা, ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। ফলে নির্বাচনে জয়ী হতে কয়েকটি পক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের একাংশের দাবি, নির্বাচন বাঞ্চাল করতেই পরিকল্পিতভাবে বোমা আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

কেরু শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ‘শ্রমিকদের নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে, এটি কেউ বন্ধ করতে পারে না। শুধুমাত্র দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত হতে পারে।’ কেরু এলাকায় হঠাৎ বোমা পাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম প্রিন্স অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি পক্ষ নির্বাচন যাতে না হয়, সে কারণে কেরু এলাকায় বোমা ফেলে রেখে আতঙ্ক ছড়ানো চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী তৈয়ব আলী বলেন, ‘কেরুর সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া নির্বাচন বিলম্বিত করার সুযোগ নেই।’ কেরুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান বলেন, ‘শ্রমিক নেতারা নির্বাচন আয়োজনের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। তবে পরিবেশ এখনো উত্তপ্ত, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, ‘তিন দিনে ছয়টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। ধারণা করছি, এর পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করছে। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’
এদিকে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কেরুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে বসে ৩১ জন প্রার্থী স্বাক্ষর করে নির্বাচনের দাবি জানান। তবে বর্তমান সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা অনিশ্চিত। তবে শ্রমিক নেতাদের একাংশ মনে করেন, নির্বাচন আটকাতে যাঁরা চক্রান্ত করছেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত সফল হবেন না।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)