ছবির ক্যাপশন:
মাত্র একদিনের ব্যবধানে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড চত্বরে আবারও বোমা পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির চত্বরে কালো টেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। এর মাত্র একদিন আগে, বৃহস্পতিবারও দেশের বৃহত্তম চিনি ও মদ উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানের চত্বরে একটি ককটেল বোমা উদ্ধার হয়েছিল। পুলিশ বলছে, গতকালের পাওয়া বস্তুটিও ককটেল হতে পারে, এবং আগের ককটেলের সঙ্গে এর মিল রয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকালে কেরু কলোনি এলাকার বাসিন্দা মো. স্বপন প্রথমে বোমা সদৃশ বস্তুটি দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘ছাগল চড়াতে গিয়ে ঝোপের মধ্যে কালো টেপ মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পাই, যা দেখতে বোমার মতো। একদিন আগেও একই ধরনের বস্তু পাওয়া গিয়েছিল, তাই সন্দেহ হয়। এরপর গার্ডদের জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়।’ খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ ও চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। পরে সন্ধ্যা ৭টায় রাজশাহী থেকে র্যাবের ছয় সদস্যের একটি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান ডিএডি আশরাফুল আলম জানান, বোমাটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। এর বিস্ফোরণে বিকট শব্দ হয়। রাত ৮টা ২৪ মিনিটে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যার শব্দ দর্শনা পৌর এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোনা যায়। বিষ্ফোরণের সময় গাংনী র্যাব-১২, র্যাব-৫, সেনাবাহিনী ও দর্শনা থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধারের খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন-চুয়াডাঙ্গা সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) জাকিয়া সুলতানা, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর ও সেনাবাহিনীর একটি দল। সকাল থেকেই পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখে এবং কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়নি।
এরআগে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির জেনারেল অফিস সংলগ্ন ক্লাবের পাশে ঝোপের মধ্যে লাল টেপ মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী। বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সারাদিন বস্তুটি ঘিরে রাখার পর রাত ৮টার দিকে রাজশাহী থেকে আসা র্যাবের ছয় সদস্যের বোমা নিষ্ক্রিয় দল সেটিকে ককটেল বলে নিশ্চিত করে। এবং রাত সাড়ে আটটা ৩২ মিনিটে ককটেলটি নিষ্ক্রিয় করে। তখনও বিস্ফোরণে বিকট শব্দ হয়।
এেিদক, ককটেল-বোমা উদ্ধার ও বিষ্ফোরণের পরপর দুটি ঘটনায় কেরুর শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেরুর একজন শ্রমিক বলেন, ‘দ্রুতই কেরুজ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। এটি সামনে রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। তৃতীয় একটি পক্ষ এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে। সম্প্রতি কেরু চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা এবং প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। সম্ভবত একটি মহল নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাইছে।’
এসব বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, ‘আবারও একই ধরনের টেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। এটিও ককটেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, আগের ককটেলের সঙ্গে এর হুবহু মিল ছিলো। তবে আগেরটা লাল টেপ মোড়ানো ছিল, আজকেরটা কালো টেপ মোড়ানো। দুটির বিষ্ফোরণেই বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’
ওসি আরোও বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবারের ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় কেরু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এর মধ্যে আবারও একটি ককটেল পাওয়া গেছে, যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
