ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরে ভুমিহীন পরিবার উচ্ছেদ করতে জনপ্রতিনিধিদের সামনে
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবননগর উপজেলার দোয়ারপাড়া গ্রামে খাসজমিসহ বাড়ী বিক্রির পর তা দখলকে কেন্দ্র করে ভুমিহীন পরিবারকে হুমকি ধামকী দিয়ে উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভুমিহীন পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল ক্যাডার। জীবননগর পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তারা ভুমিহীন পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে মহিলাসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। এ সময় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে ওই পৌরসভার জনপ্রতিনিধিসহ ক্যাডাররা পালিয়ে যায়। জনপ্রতিনিধি কর্তৃক এ ধরণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ আর ঘৃর্ণার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, জীবননগর পৌর এলাকার দোয়ারপাড়ার হোসেন আলীর ভুমিহীন ছেলে রুহল আমিন রুলার নিকট পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর গ্রামের শাহাজান আলীর স্ত্রী নুরজাহান ৯০ হাজার টাকার বিনিময়ে সরকারী খাস জমিসহ দু’কামরা ঘর বিক্রি করে এবং জমিসহ বাড়ীর দখল বুঝে দেয়। এ ঘটনার কয়েক দিন পর নুরজাহান আবারও ওই একই জমি বাড়ীসহ ৩শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় দোয়ারপাড়ার আজিবরের নিকট বিক্রি করে। ফলে দু’ক্রেতার মধ্যে ওই জমি বাড়ীসহ দখলের মহড়া চলে। এক পর্যায়ে আজিবরের পক্ষে অবস্থান নেয় জীবননগর পৌরসভা। এ ঘটনায় ভুমিহীন ভুক্তভোগী ভুমিহীন পরিবারকে নানাভাবে হুমকি ধামকী দিয়ে খাস জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উভয়পক্ষকে আপস নিস্পত্তির জন্য ডাকলে সেখানে নুরজাহানের পক্ষে গিয়ে হাজির হন পাঁচজন কাউন্সিলর। এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার উভয়পক্ষকে আদালতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি নির্দেশ প্রদান করে ঘরের তালা খোলা নিয়ে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি করা যাবে না।
ভুমিহীন রুলা ও তার ছোট ভাই লিটন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে বাড়ীতে অবস্থান করছিলাম। ওই সময় জীবননগর পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল কাশেম, আত্তাব উদ্দিন, খন্দকার আলী আজম ও মাহফুজা পারভিন বিউটি, লক্ষীপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল বিশ্বাস ও বিশার নেতৃত্বে এলাকার চিহ্নিত ক্যাডার উজ্জল, সাগর, জনি, চুন্নু, মাসুদ, পল্লব ,সাইফুলসহ ২০ জন ক্যাডার সশস্ত্র অবস্থায় সেখানে গিয়ে হাজির হয়। ইউএনও স্যারের নিষেধ থাকা সত্বেও তারা আমার ঘরের তালা চাবি খুলে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এই সময় আমাদের মা পারুল বেগমকে (৫৫) মারপিট করে। লিটন আরো বলেন, আমার স্ত্রী রিয়া ও বড় ভাই রুলার স্ত্রী মঞ্জুরা হামলাকারীদের বাঁধা দিলে তাদেরকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এমন কি আমার ভাইয়ের ছেলে সাব্বিরকেও মারপিট করে। হামলাকারীরা আমাদের বাড়ীর ঘর ভাংচুর করে, ঘরে থাকা টাকা পয়সা লুটপাট করে নেয়। আমি ও আমার ভাই রুলা হামলাকারীদের সামনে গেলে তারাও আমাদেরকে মারপিট করে। উজ্জল, জনি ও চুন্নু আমার ভাই রুলাকে মারতে মারতে মাটিতে শুইয়ে ফেলে। এদিকে এ ঘটনায় আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দেয়ার পাঁয়তারা করছে।
জীবননগর পৌরসভার কাউন্সিলর আত্তাব উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে আমরা কাউকে মারধর করিনি এবং কারো ঘরও ভাঙ্গেনি। যারা আহত হয়েছে তারা ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর নিজে কেটেছে। এ ব্যাপারে কাউন্সিলার খন্দকার আলী আজমের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র সোয়েব আহমেদ অঞ্জন বলেন, হামলার ঘটনাটি আমি শুনেছি। আহতরা জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সরকারী খাস জমি যিনি বিক্রি করছেন তার পক্ষে অবস্থান নেয়া ও পরবর্তীতে ভুমিহীন পরিবারের ওপর হামলা ঘটনা দুঃখজনক। তবে বিরোধপূর্ণ ঘটনাটি নিস্পত্তি করা না হলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জীবননগর থানার ডিউটি অফিসার এসআই নাহিরুল ইসলাম বলেন, ভুমিহীন রুলা ও তার পরিবারের আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থানায় এসেছিল। আমরা তাদেরকে আগে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তারা মামলা দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা বলেন, ঘটনাটি আপস-নিস্পত্তির জন্য আমি উভয়পক্ষকে ডেকে ঘটনার ব্যাপারে শুনানি করি। এ ব্যাপারে উভয়পক্ষকে আদালতের আশ্রয় নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি এবং বাড়ী দখল করার ব্যাপারে উভয়কে সতর্ক করে দিই। তারপরও যদি হামলার ঘটে তাহলে তা দুঃখজনক।
