‘ভূইফোঁড়’ সংগঠন সম্পর্কে জানেন না জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ

জাতীয়তাবাদী তারেক ঐক্যফ্রন্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা কমিটি নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপলোড তারিখঃ 2025-01-10 ইং
‘ভূইফোঁড়’ সংগঠন সম্পর্কে জানেন না জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি সংগঠনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার কমিটি গঠনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই কমিটি সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ কোনো ধরনের অবগত নন। তারা বলছেন, এটি ‘ভূইফোঁড়’ কমিটি এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেবেন। চুয়াডাঙ্গার একটি অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তারেক ঐক্যফ্রন্টের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে মুহাম্মাদ বশির উদ্দিন (চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য) এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ফিরোজ খানসহ ৭০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ এই দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আলমগীর হুসাইন অনিবন্ধিত ওই নিউজ পোর্টলকে এই তথ্য জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফেসবুকে এই কমিটির তালিকা প্রকাশে ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের স্বাক্ষর থাকলেও প্রায় এক মাস পর তা ফেসবুকে গোচর হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ জানান, তারা এ ধরনের কোনো সংগঠন সম্পর্কে জানেন না।

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু বলেন, ‘বিএনপি একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল। জেলা পর্যায়ে কোনো অঙ্গ সংগঠন গঠিত হলে তা অবশ্যই মূল দলের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে। দলের অগোচরে কোনো সংগঠন গঠন সম্ভব নয়।’ তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেবেন বলে জানান। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যতগুলো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, তার মধ্যে কোনোটিই কোনো ব্যক্তির নামে নয়। ‘তারেক ঐক্যফ্রন্ট’ নামে কোনো অঙ্গ সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলের নেই। এটি ‘ভূঁইফোড়’ সংগঠন।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, ‘তারেক ঐক্যফ্রন্ট নামে জাতীয়তাবাদী দলের কোনো অঙ্গ সংগঠন আছে বলে আমার জানা ছিল না। ফেসবুকে এই সংগঠনের চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির বিষয়ে জানতে পেরে অবাক হয়েছি।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম পিটু আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে কোনো সংগঠন বা অঙ্গ সহযোগী সংগঠন নেই। বিজ্ঞপ্তিতে রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেছেন, ‘এ ধরনের সংগঠন ভূইফোঁড়। এগুলোর কোনো বৈধতা নেই এবং বিএনপির সঙ্গে এসব সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।’
এদিকে, বিএনপির জেলা নেতৃবৃন্দের অজানা এই সংগঠনের কমিটি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির নেতারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ‘তারেক ঐক্যফ্রন্ট’ নামে প্রশ্নবিদ্ধ এই কমিটির চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ বশির উদ্দিন জেলার দর্শনা থানার বেগমপুর গ্রামের ফুলতলাপাড়ার আকবার আলীর ছেলে। তিনি মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। এছাড়া বেগমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রবাসী শরিয়তের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও তিনি পরিচিত। শরিয়তের সাথে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে জানতে ‘তারেক ঐক্যফ্রন্ট’ কমিটির তালিকায় থাকা তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এছাড়াও ওই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া কুমিল্লাপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে। স্থানীয়দের মতে, তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সাথে মিশে চলার চেষ্টা করতেন। আওয়ামী লীগ, জামায়াত এবং বিএনপির নেতাদের সাথে তার ওঠাবসা ছিল। জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন মিছিল ও মিটিংয়ে তাকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।

মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই কমিটি প্রায় এক মাস আগে গঠিত হয়েছে। তবে কমিটি সম্পর্কে কাউকে কিছুই জানানো হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি জানানো হবে।’ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘আমার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি পূর্বে তিতুদহ ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ত থাকার তথ্য সত্য নয়।’

এদিকে, ফেসবুকে প্রকাশ হওয়া চুয়াডাঙ্গা জেলা ‘তারেক ঐক্যফ্রন্ট’ সংগঠনের প্যাডে ব্যবহৃত লোগো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট দেখা যায়। অস্পষ্ট লোগো, সংগঠনটি কবে এবং কে প্রতিষ্ঠা করেছে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘সংগঠনটি কে প্রতিষ্ঠা করেছে, তা সম্পর্কে আমি অবগত নই।’ এসময় তিনি এক মিনিট সময় নেন, এবং এরপর জানান সংগঠনটি ২০১৬ সালের অক্টোবর ২০ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ জেলা বিএনপির কোনো নেতা এই সংগঠন সম্পর্কে কেন জানে না, জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। দলের সভাপতি মিঠুকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, `তাদেরকে আমার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলেন।’
‘তারেক ঐক্যফ্রন্ট’ প্রশ্নবিদ্ধ এই কমিটির সভাপতি মুহাম্মাদ বশির উদ্দিনের বিষয়ে মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে তাকে সভাপতি করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং মন্তব্য করতে চাই না।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)