ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নেহালপুরে অবৈধভাবে মাটি ও বালি উত্তোলনের দায়ে নুর গনি (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক চুয়াডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল্লাহ এ আদালত পরিচালনা করেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘বেশ কিছুদিন থেকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর আসে আমার কাছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্বস্ত লোকের মারফত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল নেহালপুর ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া বেলের মাঠ পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর আগে এলাকার একাধিক মানুষের কাছে ঘটনাস্থল কোথায় জানতে চাইলে তাদের অনেককেই বলতে শোনা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলাপ করেই নাকি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ আমার কাছে বালু উত্তোলন বিষয়ে কেউ কোনো আবেদনই জমা দেননি। আমার যতটুকু মনে পড়ে, আমি চুয়াডাঙ্গায় যোগদানের কয়েকদিন পরে এক ভদ্রলোক আমাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিতে এসেছিলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে বলেছিলেন কোনো একটি জায়গায় কিছু বালু লাগবে। সে সময় ভিড়ের মধ্যে তাকে আমি অনুমোদন তো দূরের কথা এ বিষয়ে কোনো কথাই তাদের সাথে আলাপ করিনি। অথচ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি একটি ড্রেজার, এসকেভেটর ও ১০টি ট্রাক্টর দিয়ে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি, নুর গনি ও খাইরুল আলম যুদ্ধ নামে দুই ব্যক্তি পার্টনারে এ বালু উত্তোলন করে থাকেন। পরে নুর গনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫ ধারা মোতাবেক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আদালতের বিচারক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাইফুল্লাহ আরও বলেন, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যহত থাকবে। অবৈধভাবে মাটি ও বালি উত্তোলন বিষয়ে যেকোনো তথ্য থাকলে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে জানানোর জন্য সর্ব সাধারণের প্রতি আহ্বান জানানোর অনুরোধ রইল।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী মাখালডাঙ্গা গ্রামের নুর গনি মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও তার পার্টনার খাইরুল আলম যুদ্ধ দর্শনা থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন হিজলগাড়ী ক্যাম্প পুলিশের একটি চৌকশ টিম ও আদালত সহকারী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাজির এস এম রাসেল।
