ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টুর ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইউনিয়নবাসী। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় হারদী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউনিয়নবাসী ও ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে এই অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন পালন এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান হয়।
মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে হারদী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মনির হোসেন বলেন, ‘হারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু আওয়ামী লীগের একজন দোসর। সে এমন কোনো অপকর্ম নেই যা ইউনিয়ন পরিষদে বসে করে নাই। সাধারণ গরিব মানুষের চাল, সার, কম্বল মেরে খেয়েছে। বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা করার জন্য বিপুল অংকের টাকা নিয়েছে। সে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হয়ে এলাকার মানুষের ওপর তার পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে গেছে।’
হারদী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আশিকুজ্জামান ওল্টু একজন মাদকসেবী। তার মতো মানুষ এই পরিষদে বসার কোনো যোগ্যতা নেই। সে সাধারণ মানুষের উপকারের চেয়ে ক্ষতি করেছে বেশি। সেই ফ্যাসিবাদী সরকার আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নানা রকম অবৈধভাবে অর্থ বাণিজ্য করে গেছে। সে আওয়ামী লীগ ছাড়া ইউনিয়নের কোনো জনগণকেই চিনতো না। তাই আমরা চাই এরকম অত্যাচারী, স্বৈরাচারী চেয়ারম্যান যেন এই পরিষদে আর না বসতে পারে। আমরা তাকে এই পরিষদ থেকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’
অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধনে শোয়েব আলীর সঞ্চালনায় ও হারদী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন হারদী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবু জেহেল আব্দুল্লাহ, হারদী ইউনিয়নের যুবদল নেতা বাবলু মিয়া, জামাল হোসেন, ইউনিয়নের ছাত্রদল সভাপতি শিপন হোসেন, হারদী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক, মৎস্যজীবী দলের ইউনিয়ন সভাপতি সুমন হোসেন, ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ জিকু, মিজান, জিম, কামাল, আজাদ প্রমুখ।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘হারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টুকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে এমন খবর শুনেছি, তবে স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি এখনো আমার জানা নাই। স্মারকলিপি আমি হাতে পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
