ছবির ক্যাপশন:
সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী দুদক কমিশন ঢাকার নির্দেশে ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমানের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
দিনব্যাপী চলা এ অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে বিভিন্ন অনিয়ম ও সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং সারের সংকট তৈরিতে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অভিযানে সারের ডিলারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুদক তদারকি চালিয়েছে এবং ন্যায্য মূল্যে সার বিক্রির জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এসময় দুদক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ পায় এবং সেকল প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কৃষি বিভাগকে অবগত করে।
এর মধ্যে গতকাল সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদরে বদরগঞ্জ দশমাইল বাজারে মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সে দুদক অভিযান চালায়। অভিযানে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির প্রমাণ পায় দুদক। ঝিনাইদহের দুদকের সহকারী পরিচালক মো. খালিদ মাহমুদ অভিযানে বিষয়ে জানান, দুদকে ঢাকা কার্যালয় হতে একটি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গার সদরে দশমাইল বদরগঞ্জ বাজারে মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। আমরা অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাই। ইউরিয়া সার কেজিপ্রতি ২৭ টাকা সরকারি মূল্য হলেও কৃষকদের কাছে থেকে ৩৮ টাকায় নিচ্ছে দোকানদার তাহজাদ আলী। তাকে আমরা হাতেনাতে ধরেছি। মেসার্স সাকিব ট্রের্ডাসের মালিক তাহাজ আলী কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান, দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিদর্শক মো. কাউসার আহমেদ, বদরগঞ্জ বাজার কমিটির সাবেক সেক্রেটারি তারিকুজ্জামান লাল্টু প্রমুখ।
এদিকে, দুদকের এই অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গায় কৃষি বিভাগ কর্তৃক বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করা হয়। এছাড়া, দুদক চুয়াডাঙ্গার বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) গোডাউনও পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনকালে বিএডিসির সার গোডাউনের পরিচালক শংকর কুমার জানিয়েছেন, সারের কোনো সংকট নেই। তবে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
