ছবির ক্যাপশন:
৫ আগস্টের পর থেকে উদ্যোক্তাবিহীন অবস্থায় কচ্ছপ গতিতে চলছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র। হিসাব সহকারী দিয়ে দ্বায়সারা কার্যক্রম চলছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে সেবাপ্রত্যাশীরা। দেখার যেন কেউ নেই।
জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ৫ আগস্ট থেকে পরিষদে না আসায় তথ্য ও সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কার্যক্রম চালু রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী ফিরোজ হোসেনের মাধ্যমে কিছুটা কাজ চালানো হলেও কচ্ছপ গতিতে নাগরিক সেবা কার্যক্রম চলছে। এতে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদপত্রসহ অন্যান্য সেবার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।
জন্ম নিবন্ধন করতে আসা হরিশপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাতে জন্ম নিবন্ধন করতে দিয়েছি। কিন্তু ১ মাস ধরে ঘুরছি, কাজ হচ্ছে না।’
নাগরিক সনদ নিতে আসা একই গ্রামের নুসরাত নামে এক কলেজ ছাত্রী জানান, ‘একটি নাগরিক সনদপত্র নিতে ৩ দিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না। এতে আমাদের ভোগান্তিই শুধু বাড়েনি, বিভিন্ন কাজে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।’
রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের আসাদুল অভিযোগ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের স্থলে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রতিদিন অফিস করতে পারেন না। জরুরি কাগজপত্রে সই করার জন্য নির্ধারিত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তার ওপর সচিব সুজাল উদ্দিন দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে পরিষেবাগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’
বিষয়টি নিয়ে নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বেলাল হুসাইন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে তথ্য সেবার উদ্যোক্তা পরিষদে না আসায় সমস্যা হচ্ছে। আমি নতুন ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এর একটি সমাধান হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘তথ্য সেবার উদ্যোক্তা না থাকার বিষয়টি আগে কেউ লিখিতভাবে জানায়নি। আমি তাদের অফিসিয়ালি শূন্যপদের প্রতিবেদন দিতে বলেছি। নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে।’ এদিকে, প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হওয়া স্থানীয়রা দ্রুত উদ্যোক্তা নিয়োগসহ এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
