ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘কৃষকদের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন, আর দেশের উন্নয়ন মানেই আমাদের সবার উন্নয়ন। সুতরাং সবার আগে সঠিক মূল্যে এবং সঠিক সময়ে কৃষক যাতে সার পায়, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। চুয়াডাঙ্গার সকল সার ডিলারদের স্ব-স্ব ইউনিয়নে সেলস সেন্টার এবং গোডাউন একই স্থানে রাখতে হবে। যাদের সেলস সেন্টার এক জায়গায় এবং গোডাউন আরেক জায়গায়, তারা সময় নিয়ে সেলস সেন্টার ও গোডাউন একই স্থানে স্থাপন করবেন।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সার ডিলারদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অনেক ডিলার আছেন, যাদের সেলস সেন্টারে কৃষকরা গেলে বলা হয়, সার গোডাউনে রয়েছে। আবার গোডাউনে গেলে বলা হয়, সার সেলস সেন্টারে রয়েছে। এ ধরনের কাজ করা যাবে না। প্রয়োজনে আপনাদের তিন মাস সময় দেওয়া হলো এসব কাজ সম্পন্ন করার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিয়মের বাইরে কিছু বলতে চাই না। সরকার সারের ওপর ৩০০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়। অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা ১০০ টনের গোডাউন তৈরি করতেও আগ্রহী। সারের সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। রাত-দিন শিল্প সচিব, কৃষি সচিব এবং বিএডিসি থেকে সার নিয়ে যোগাযোগ করতে হয়। ফলে গোডাউনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা আপনাদেরও দায়িত্ব। যাদের গোডাউন নেই, দ্রুত এগুলো স্থাপন করুন। এখানে অনেকে আছে যারা পুরোনো সার ডিলার। আপনাদের উচিত ছিল বরাদ্দ অনুযায়ী সারের গোডাউন বড় করার।’
সেলস সেন্টার ও গোডাউনের বিষয়ে একজন ডিলারের প্রশ্নের উত্তরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ধরুন আপনি সেলস সেন্টারে ২ টন মাল এনেছেন সকালে। আপনি তো সেগুলো বিক্রি হয়ে গেলে কৃষককে বলবেন এখানে আর সার নেই। যদি আপনার গোডাউন পাশাপাশি থাকতো তাহলে আপনি এ কথা বলার সুযোগ পাবেন না। এ ধরণের সমস্যার কারণ খুব বেশি সার ডিলারের নেই। প্রথমে আপনারা নিয়ত করেন, দেখবেন এগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।’
তিনি ডিলারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা চেষ্টা করবেন স্ব স্ব ইউনিয়নে কৃষকদের ভোটার আইডি কার্ড দেখার। এগুলো আস্তে আস্তে চালু করেন। একদিনে এগুলো সম্ভব নয় তবে চালু করতে দেখবেন কৃষকরা অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এছাড়া ডিএপি সারের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা টিএসপি সার নিতে অনিচ্ছুক ডিলারদের এমন দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক জানান, যেহেতু টিএসপি সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বাড়ে, সে জন্য ডিলাররা কৃষকদের একটু বোঝানোর চেষ্টা করবেন। বলবেন যদি ডিএপি সার ৫ কেজি ব্যবহার করেন, তার সাথে ২ কেজি টিএসপি ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা বাড়বে। এই ম্যাসেজ কৃষকদের মাঝে আপনাদেরকে পৌঁছাতে হবে। এছাড়া আমার কাছে ম্যাসেজ আছে কৃষকরা বেশি দামে সার কিনে থাকেন। কোনোভাবেই সরকার নির্ধারিত দামের বেশিমূল্যে সার বিক্রি করা যাবে না।’
নেহালপুর ইউনিয়নের বিএডিসির ডিলার রানা ট্রেডার্সের সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আমার এলাকায় একা ডিলার হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে, অথচ পৌর এলাকার ডিলাররা বাইরে সার সরবরাহ করেন না।’ জেলা প্রশাসক জানান, এক উপজেলায় বিএডিসি ডিলার বেশি, আবার বিসিআইসি ডিলার কম। বরাদ্দের ক্ষেত্রে রেসিও অনুযায়ী বিভাজন করতে হবে। নির্ধারিত দামের বেশি সার বিক্রি করা যাবে না। অনিয়ম হলে আমি তা মেনে নেব না।
সভায় উপস্থাপনা করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দেবাশিষ রায়, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আফরিন বিনতে আজিজ, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার রেহেনা আক্তার, জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার অভিজিৎ কুমার, প্রেসক্লাব সভাপতি রাজীব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, লোকমোর্চার সভাপতি মানিক আকবর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্কসহ বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলাররা।
