ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গতকাল দুপুর ১২টায় তালতলা শ্মশানঘাটে অনুষ্ঠিত হয় জেলার বিশিষ্ট লেখক ও সাহিত্যিক বনওয়ারী লাল বাগলার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। শেষ বিদায়ে অংশ নিতে চুয়াডাঙ্গার সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক অঙ্গনের অসংখ্য মানুষ উপস্থিত হন। সকাল সাড়ে ৯টায় বড়বাজারের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর শেষযাত্রা শুরু হয়ে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজের সঞ্চালনায় একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, চুয়াডাঙ্গা জেলা লেখক সংঘ, চর্চায়ন-চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা সংসদ, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংলাপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংসদের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. হামিদুর রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
স্মৃতিচারণ করে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সদস্য কাজল মাহমুদ বলেন, ‘বনওয়ারী লাল বাগলা ছিলেন এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর লেখনীর প্রতি যে দরদ এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতা, তা আমি আর কারো মধ্যে দেখিনি। রবীন্দ্রসংগীতের কোনো গানের অর্থ বুঝতে না পারলে আমি তাঁর কাছে যেতাম। তিনি এমনভাবে ব্যাখ্যা করতেন যা আজও আমার মনে গেঁথে আছে। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
বনওয়ারী লাল বাগলার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সাহিত্যিক ইকবাল আতাহার তাজ, কবি সরদার আলী হোসেনসহ চুয়াডাঙ্গার সাহিত্যাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, তাঁর সৃষ্টি এবং স্মৃতি চুয়াডাঙ্গার সাহিত্য অঙ্গনে চিরকাল জীবিত থাকবে।
বনওয়ারী লাল বাগলা জীবদ্দশায় প্রায় ৫০০-এর বেশি সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ছড়া, কবিতা, ছোটগল্প এবং রম্য রচনা। যদিও এগুলোর সংকলন সম্পূর্ণ হয়নি, তবে তাঁর অনবদ্য সৃষ্টিকর্ম সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর সোমবার বেলা ১২টা ১ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার বড়বাজারে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বনওয়ারী লাল বাগলা। তাঁর মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গার সাহিত্য অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
