ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উদ্ধার করা মাংস ও হাড়ের সঙ্গে তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের ডিএনএ মিলেছে। ফলে আনার হত্যার ৭ মাস পর বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থাকার অবসান হলো।
পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ রিপোর্ট নিশ্চিত করেছে যে, একটি খাল, ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক এবং পাশ থেকে উদ্ধার করা মাংস ও হাড় বাংলাদেশের সাবেক এমপির। ভারতের সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে দুটি নমুনাই পাঠানো হয়েছিল এবং সেগুলোর ডিএনএ মিলে গেছে। গত নভেম্বরের শেষ দিকে ডরিন কলকাতায় গিয়ে ডিএনএ নমুনা দেন। পরে দুটি নমুনা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে পশ্চিমবঙ্গে যান ঝিনাইদহের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। ওইদিন সন্ধ্যায় কলকাতায় তার পারিবারিক বন্ধু ও সেখানকার গোল্ড স্মাগলার গোপাল বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেন। পরদিন ১৩ মে দুপুরে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে গোপালের বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যায় ফিরবেন বলে জানান। বিধান পার্কের কাছে কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে একটি ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন আনার। পরে সন্ধ্যায় গোপালকে ফোন করে জানান, তিনি দিল্লি যাচ্ছেন এবং সেখানে পৌঁছে ফোন করবেন। এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ১৭ মে আনারের পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে গোপালকে ফোন করে। তখন গোপাল জানায়, তার খোঁজ নেই। ওইদিন ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরে ২২ মে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে এমপি আনারকে টুকরো টুকরো করে খুন করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সঞ্জীবা গার্ডেনসের সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রায় ৪ কেজি মাংস উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতকরা মরদেহের টুকরোগুলো ফ্ল্যাটের টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে এবং কিছু হাড় কলকাতার ভাঙ্গরের বাগজোলা খালে ফেলে দেয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দেওয়ার জন্য আনারের স্ত্রী ইয়াসমিন ফেরদৌস ও ভাই এনামুল হককে ডাকলেও কেবল তার মেয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন।
২২ মে শেরেবাংলা নগর থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন আনারের মেয়ে ডরিন। সেই মামলায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিণ্টু এবং জেলা ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবুসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি আক্তারুজ্জামান এখনো পলাতক। কলকাতা পুলিশ এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। শেরেবাংলা নগর থানার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হতে বাধা নেই।
