নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের কম্বল নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

আপলোড তারিখঃ 2024-12-20 ইং
নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের কম্বল নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নের শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া কম্বল ইউনিয়নের বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে বণ্টন করার কথা থাকলেও জামায়াতকে বাদ দিয়ে বিএনপি নেতারা কম্বল বিতরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

নেহালপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সহসভাপতি নুরুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি কম্বল এসেছে এবং তা বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তালিকা তৈরির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে বলে জানান ইউপি সচিব সুজাল উদ্দিন। সেই মোতাবেক আমাদের লিস্ট প্রস্তুত করার কথা বলেন। এ বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরজ আলীর সাথে কথা বলি। বৃহস্পতিবার আমাদের দুইপক্ষ পরিষদে গিয়ে কম্বল বিতরণ করার কথা থাকলেও সকালে জানতে পারি পরিষদ থেকে বিএনপি নেতারা একাই কম্বল নিয়ে গেছে এবং তা বিতরণও শেষ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সুজাল উদ্দিনের কাছে জানতে কল দিলে তিনি বলেন, আমি পরিষদে ছিলাম না। বিএনপি নেতারা আমাকে না জানিয়েই কম্বল নিয়ে গেছে।’ জামায়াত নেতা নুরুল আমিন বলেন, ‘সচিবের অনুপস্থিতে কীভাবে সরকারি কম্বল নিয়ে বিতরণ করা হলো, এমন প্রশ্ন করলে সচিব তার কোনো উত্তর দেয়নি। যা নিয়ে আমাদের দলীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি জেলা আমিরকে অবহিত করেছি।’

জামায়াত নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয় নিয়ে নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সুজাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিষদে কম্বল আসার পর আমি বিএনপি ও জামায়াতের সভাপতিকে জানাই এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কম্বল বিতরণ করার জন্য অনুরোধ করি। বুধবার আমি পরিষদে উপস্থিত ছিলাম না। পরে শুনি বিএনপি নেতারা কম্বল নিয়ে গেছে।’ আপনার অনুপস্থিতে কীভাবে কম্বল নিয়ে গেল, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কীভাবে নিয়ে গেল সেটাই তো প্রশ্ন।

এ বিষয়ে নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরজ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিষদ থেকে আমাকে জানানো হয় কম্বল এসেছে এবং সেগুলো নিয়ে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করলে আমি ও সহসভাপতি মাসুদ রানা পরিষদে যায়। সেখানে দফাদার আজিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আমাদের সামনেই দফাদার আজিজুল সচিবের সাথে কথা বলে নিজ হাতে গুনে আমাদের কম্বলগুলো দেয় এবং আমি নিজে কম্বলগুলো বুঝে নিই।’
এ বিষয়ে দফাদার আজিজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সভাপতি ফরজ চাচা পরিষদে আসলে আমি সচিব স্যারকে কল করি এবং তার নির্দেশনামতে পরিষদে থাকা ২৩৪টি কম্বলের মধ্যে সভাপতির কাছে ১৯৮টি কম্বল গুনে দিয়ে কাগজে সই-স্বাক্ষর করে নিই। বিষয়টি সচিব স্যারের অনুমতি নিয়েই দেওয়া হয়েছে।’

নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ তো জোর করে পরিষদ থেকে কম্বল নিয়ে আসেনি। সচিব ও দফাদার ডেকে নিয়ে কম্বল দিয়ে এখন ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করে স্থানীয়ভাবে জামায়াত ও বিএনপিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।’ এদিকে সচিব ও দফাদারের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে সচেতন মহল মন্তব্য করে বলেন, সচিব ও দফাদারের শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)