জীবননগরে কৃত্রিম সংকট, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কৃষকরা ফিরছেন খালি হাতে

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া মিলছে না সার

আপলোড তারিখঃ 2024-12-20 ইং
জীবননগরে কৃত্রিম সংকট, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কৃষকরা ফিরছেন খালি হাতে ছবির ক্যাপশন:

জীবননগরে গম, ভুট্টা, তামাক ও আলুর আবাদের ভরা মৌসুমে সার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা। এক বস্তা সার সংগ্রহ করতেই চাষিদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা না থাকলে জুটছে না সার। ডিলারদের দাবি, একই কৃষক তাদের বিভিন্ন আত্মীয়ের নামে বারবার সার তুলছেন। যার ফলে সার দিতে একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সার ডিলারদের গুদামের সামনে সারের জন্য আইডি কার্ড হাতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন। কখন মিলবে সার, এমন প্রতিক্ষায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে কৃষকেরা। কেউ সার নিয়ে ফিরছেন বাড়ি, আবার অনেকেই সকাল থেকে লাইন দিয়েও বাড়ি ফিরছেন খালি হাতে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রির কারণে এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়ার ভাই ভাই বীজ ভান্ডারের সামনে সার নেওয়ার জন্য কৃষকদের লম্বা লাইন। অনেকেই সার না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। একই অবস্থা সীমান্ত ইউনিয়নের মোল্লা ফার্টিলাইজারে সামনেও। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার না থাকায় অনেকেই সার না পেয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনে বাড়িতে যেতে দেখা গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় সার কম থাকায় এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের হারুন বলেন, ‘আমি দুই সপ্তাহ যাবৎ সারের জন্য ঘুরছি, আজ সার দেওয়ার কথা। আমি ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু ডিলার বলছে সার সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা তাহলে যাবো কোথায়।’ আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক ইসরাফিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আন্দুলবাড়ীয়া বাজারে যে সারের ডিলার আছে, এরা পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটচাদঁপুরের কিছু ব্যবসায়ীর নিকট বেশি দামে সার বিক্রি করে থাকেন। যার কারণে আমাদের এখানে সার সংকট হচ্ছে।’

সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, বাজারে সার আনতে যেয়ে পড়তে হচ্ছে বিপাকে। কৃষি অফিসারের অনুমতি ছাড়া ডিলারের নিকট মিলছে না সার। গঙ্গাদাশপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কে যে কৃষি অফিসারের দায়িত্বে আছে, আমি তাকে কোনো দিন দেখিনি। এখন তার সুপারিশ ছাড়া সার দিচ্ছে না ডিলার। তাহলে আমরা সার কিনব কীভাবে। কৃষি অফিসে গেলে কেউ কোনো তথ্য দিতে চায় না। আমরা যারা কৃষিকাজ করি, আমরা পড়েছি চরম বিপাকে। কৃষি অফিসার সরকারি গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তার তো কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু আমরা কৃষকরা পড়েছি নানা জটিলতায়।’

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগর উপজেলায় কোনো সার সংকট নেই। কিছু ডিলারের মাল আছে আর কিছু ডিলারে এখনও মাল আসেনি, সে কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। কৃষকদের সার নেওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া লাগবে কি না, এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকে আছে চাহিদার তুলনায় বেশি তুলে নিচ্ছে, যার কারণে সার নিতে কৃষকদের লাইন দিতে হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিলে সমস্ত কৃষক পাবে। তবে জীবননগর উপজেলায় কোনো সার সংকট নেই, আশা করি হবেও না।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)