ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। আন্তঃদপ্তর সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে মানুষের বেশি কিছু প্রত্যাশা নেই। আপনার কাছে প্রত্যাশা, আপনার দায়িত্বের মধ্যেই থাকবে। আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। যতদ্রুত কাজ শেষ হবে, তত দ্রুত সেবা পাবে মানুষ। সড়কসহ সকল অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার কাজে কোনোভাবেই অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। সরকার টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে, উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়াতে হবে। চুয়াডাঙ্গা খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। এ জেলায় পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদন হয়। সরকারি ধান-চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ ধরনের জেলা থেকে যেন সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে, তা দ্রুত পরিশোধে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণকাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজ চলমান রেখেছে। দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করে বলেন, সকল দপ্তর যেন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে পারে, সে জন্য এই সভার সময় আরেকটু বৃদ্ধি করার প্রয়োজন।
সভায় সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতির বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, জেলার বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরগুলোর অধীনে যে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, তার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে কাজ থেমে আছে। ঠিকাদারের হদিস নেই। কেন সেই কাজগুলো হচ্ছে না, বা কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলো নিয়ে এই সভায় আলোচনা ওঠা প্রয়োজন। সরকারি কাজ করতে কারো যদি নিরাপত্তা বা অন্য কোনো ধরনের সমস্যা থাকে, সেগুলোর সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এছাড়াও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি সামনে এনে সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বদলি ঠেকাতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। ঘটনাটি দৃষ্টিকটূ। আমাদের সন্দেহ এ ধরনের বাজে ঘটনা ঘটানোর পেছনে কৃষি বিভাগেরই কয়েকজনের ইন্ধন আছে।
জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সভায় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এটা সত্য যে কিছু ঠিকাদার বিভিন্ন মতাদর্শের ছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কারণে কিছু কাজ থেমে আছে। সেগুলো চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।’ সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সদর অফিসের একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বদলি স্থগিত করার দাবিতে আমাকে দুপুর পর্যন্ত অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের লোকজন গিয়ে এ সমস্যার সমাধান করেন। তবে যারা আমাকে অবরুদ্ধ করেছিলেন, তারা কৃষকই নয়। আবার কেউ কেউ বাইরের জেলার। গণমাধ্যমকর্মীরাও আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। আমি পুরো বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’ সভায় সাংবাদিক আহসান আলম দ্রব্যমূল্য ও বাজারে সয়াবিন তেলের কৃত্তিম সংকটের বিষয়টি সামনে আনেন। বিষয়টিতে নজর দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার রেজওয়ানা নাহিদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম. সাইফুল্লাহ, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ মহল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-আমীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসীন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাকসুরা জান্নাত, ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসান মিয়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী, আহসান আলমসহ সরকারি সকল দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
