১৩ লাখ টাকার নতুন ব্রিজের আয়ু ৫ মাস!

আপলোড তারিখঃ 2024-12-16 ইং
১৩ লাখ টাকার নতুন ব্রিজের আয়ু ৫ মাস! ছবির ক্যাপশন:

পাঁচ মাস আগে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বছর না পেরোতেই একই স্থানে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে এই অপচয়মূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, ফলে পাঁচ মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত ব্রিজটি এখন ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে। যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে দেখা যায়, জিকে সেচ খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের গায়ে এখনও মোড়ানো রয়েছে নতুন পলিথিন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তাবায়নকৃত ব্রিজটির ব্যয় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ একই স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আরেকটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, ‘একই স্থানে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে আরও একটি কালভার্ট। এটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও দুই বিভাগের সমন্বয়ের অভাব ছাড়া কিছুই নয়। ফলে সরকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক আরশেদ আলী বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্রিজটি নির্মাণেও অনিয়ম করা হয়েছে। সড়কের প্রশস্ত অনুযায়ী ব্রিজ না করায় প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ব্রিজটি যখন নির্মাণ করা হয়, তখন তারাই বলেছিল কয়েকদিন পর আবারো নতুন ব্রিজ হবে। আমার নিষেধ করার পরও তারা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করে।’

রাশেদ হক নামে আরেক গ্রামবাসী প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সরকারের কত টাকা হয়েছে যে, ৫ মাসের মাথায় নতুন ব্রিজ ভেঙ্গে আবারো ব্রিজ করতে হচ্ছে? নতুন ব্রিজই যদি করবে, তখন এই ব্রিজটি করার কী দরকার ছিল।’ তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ সমন্বয় করলে সরকারের এই বাড়তি টাকা গচ্ছা যেত না।’

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘জিকে সেচ খাল যেহেতু আমাদের আওতাধীন, তাই আমরা ব্রিজটি নির্মাণ করেছিলাম। তবে ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে এলাকাবাসীর ভোগান্তি হচ্ছিলো। সেই ভোগান্তি দূর করতেই আমরা ব্রিজটি নির্মাণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ যদি ওই স্থানে ব্রিজ করে, তাহলে আমাদের কাছ থেকে এনওসি নিয়ে করতে হবে। কিন্তু তারা এনওসি না নিয়েই স্টিমেট করেছে। আগামীতে সওজ বা এলজিইডি যদি জিকে সেচ খালের ওপর ব্রিজ করে আমাদের সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করলে এই ভুল বোঝাবুঝি হবে না।’

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ব্রিজটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন নির্মিত হয়েছিল। ব্রিজটি যখন নির্মাণ করা হয়, সে সময় আমার আগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দু’দফা চিঠিও দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের সমন্বয় করা যায়নি। ব্রিজটি নতুন হলেও এলাকার মানুষের চলাচলের অনুপযোগী। তাই এলাকার মানুষের ভোগান্তি দূর করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে নতুন ব্রিজের কাজ শুরু হবে। এতে আশা করি এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)