ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর সাইবার ক্রাইম সেলের অভিযানে ভিসা জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ডসহ নগদ ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে জব্দকৃত টাকা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ৮টায় পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে টাকা হস্তান্তর করা হয়। পরে জেলা পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম (পিপিএম) বিষয়টি নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গাংনী থানাধীন হিজলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউর ইসলামের ছেলে রবিন রানা (২০) একজন ছাত্র। তার পিতা মিশরে থাকাকালীন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সাথে মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ওই ব্যক্তি গোপনে রবিনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে অস্ট্রেলিয়া বা কানাডায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন। মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে রবিনের বাবাকে ভিসা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর পরপরই রবিনের বাবার নির্দেশে বিভিন্ন সময় মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা প্রেরণ করা হয়। কিন্তু এক মাসের মধ্যে ভিসা না পাওয়ায় রবিন তদন্ত শুরু করেন।
পরবর্তীতে জানা যায়, যে ভিসাটি তাকে প্রদান করা হয়েছিল, তা নকল ছিল। যাচাইয়ের পর ভিসার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে রবিন সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে গেলে নম্বরগুলো বন্ধ পায়। পরবর্তীতে গত ১০ জুলাই এ ঘটনায় গাংনী থানায় একটি মামলা করা হয়। অভিযোগ পেয়ে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল মামলাটির তদন্ত শুরু করে এবং তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে। পরে সেল অভিযান পরিচালনা করে ভিসা জালিয়াতি চক্রের অন্যতম সদস্য নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার খাতামধুপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে রশিদুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার নিকট থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, ১৫টি সিম কার্ড, ৩২টি ‘কথিত কৌটার সিম’ এবং ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল মেহেরপুর পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল), ইনচার্জ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত নগদ ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা ভুক্তভোগীকে হস্তান্তর করা হয়।
