সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

আপলোড তারিখঃ 2024-12-15 ইং
সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত ছবির ক্যাপশন:

শহিদদের ত্যাগকে নিজেদের অন্তরে উপলব্ধি করে দেশের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার

গতকাল শনিবার ছিল ১৪ ডিসেম্বর, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধা শূন্য করতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এই দেশীয় দোসররা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এদিন দেশের সূর্য সন্তান শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিন্তক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের বহু কৃতী সন্তানকে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়। গতকাল শনিবার সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
দিবসটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ছাত্র সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ স্থানীয় শহিদবেদি, বধ্যভূমি, শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসহ বিভিন্ন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ও বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম অর্ক প্রমুখ। আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস প্রধান, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

``

অন্যদিকে, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার শহিদ বেদিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ও সংক্ষিপ্ত সভা করেছে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শহিদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন তারা। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, ‘শহিদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির অমূল্য সম্পদ। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সফল করেছে। আমরা তাদের আদর্শ ধারণ করে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চাই।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু। তিনি শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের দিনে শুধু মোমবাতি প্রজ্বলন বা আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে তাদের স্মরণ করলেই হবে না। আমাদের উচিত তাদের ত্যাগকে নিজেদের অন্তরে উপলব্ধি করে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পল্টু, যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মালিক, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস.এম হাসান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসান এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাজেদুল আলম মেহেদী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের স্মৃতিচারণ করেন নেতৃবৃন্দ। জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চাদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল ঘোষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুল মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন মো. সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবার রহমান প্রমুখ। অপরদিকে, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বড় বাজার শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে জেলা অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংলাপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ও উদীচী চুয়াডাঙ্গা জেলা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন।

``

অপরদিকে, ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদল চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা আয়োজন করে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফয়সাল ইকবালের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ কে সাইফুর রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান। বিশেষ অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি তৌফিক ইলাহী, সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল হোসেন এবং রকিবুল ইসলাম।
বক্তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদরদের হাতে নিহত বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের অবদান তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের মূল্যবান সম্পদ, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। বুদ্ধিজীবীদের যে আত্মত্যাগ ও অবদান ছিল, তা আমাদের দেশের বৈষম্যহীন স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তরুণ সমাজ এবং ছাত্র সমাজ এক হয়ে তাদের অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাইমুম আরাফাত।
এছাড়া, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে পরিষদ কার্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে গতকাল বিকালে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা করেন জাহিদ হোসেন, ড. মুন্সি আবু সাইফ, তৌহিদ হোসেন, শেখ সেলিম ও হাবিবি জহির রায়হান। শহিদদের স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কাজল মল্লিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন সরদার আলী হোসেন, হারুদ-অর রশিদ, গোলাম কবীর মুকুল, বনলতা, শেখ পিন্টু, মিম্মা সুলতানা মিতা, হুমায়ুন কবীর, মসিউর রহমান মিলন প্রমুখ। আলোচনা সভার শুরুতেই শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং অনুষ্ঠান শেষে পরিষদ প্রাঙ্গণে আলোক প্রজ্বলন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজল মাহমুদ।
এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলমডাঙ্গা শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে উপজেলা পরিষদের হলরুমে বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম।

``

তিনি বলেন, ‘নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের শেষলগ্নে পুরো দেশের মানুষ যখন চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই এ দেশীয় নরঘাতক রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা মেতে ওঠে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে। বিজয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে বাঙালিকে মেধাশূন্য করার এ নৃশংস নিধনযজ্ঞ সেদিন গোটা জাতিসহ পুরো বিশ্বকেই হতবিহ্বল করে দিয়েছিল।’
পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তার উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিষ কুমার বসু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল হক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাতেমা কামরুন নাহার আখি, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী সমসের মল্লিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাহিদ হাসান, সরকারি কলেজের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মও. মাসুদ কামাল।
অপরদিকে, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ সারাদেশে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে দশটায় কলেজের অডিটোরিয়ামে কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের পরাজয় নিশ্চিত জেনে দেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে শুধু পাক বাহিনী নয়, দেশের কিছু কুলাঙ্গারও জড়িত ছিল। জহির রায়হান, যিনি সঠিক ইতিহাস উন্মোচনের চেষ্টা করেছিলেন, রহস্যজনকভাবে তিনি নিখোঁজ হন। সরকার কখনো সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরেনি। বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত রাজাকার, আলবদর ও আলশামসসহ সকল খুনির বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার ফলে জাতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণে মেধাভিত্তিক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল ইমরান রাসেলের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, আলমডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসনাত রিংকু, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, বকুল হোসেন, জীবন আলী, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহেদুজ্জামান শুভ, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মাহমুদ রাজ। আরোও উপস্থিত ছিলেন বেলগাছী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সালেক মাহমুদ নিরব, ১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল হোসেন, কলেজ ছাত্রদল নেতা তুষার, শিশির, আলিফ, রোহান, নাঈম, নব চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন স্থির চিত্র প্রদর্শন করা হয়। গতকাল আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল ইমরান রাসেল প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের উদ্যোগে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মফিজুর রহমানের। প্রভাষক ড. মহবুব আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও আব্দুল মোনয়েম, সহকারী অধ্যপক গোলাম ছরোয়ার। সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর‌্য তুলে ধরেন সহকারী অধ্যপক মহিতুর রহমান। পর দোয়া পরিচালনা করেন প্রভাষক জামাল উদ্দিন।
এছাড়াও, হাটবোয়ালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস যথাযোগ্য মর‌্যাদায় পালিত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় জাতীয় ও শোক পতাকা উত্তোলন, আলোচনা এবং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন ভাঙ্গাবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মুর্শিদ কলিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ধুনা, ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিবুল হুদা তুহিন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জান মোহাম্মদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সেলিম রেজাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। পরে দোয়া পরিচালনা করেন হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আজম তুল হুদা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরিফুজ্জামান লাকি।
এদিকে, দর্শনা সরকারি কলেজ, দর্শনা পৌর বিএনপি এবং অনিবার্ণ থিয়েটারের উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় দর্শনা পুরাতন বাজার মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুল ইসলাম, অ্যাড. কমরেড বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক এনামুল হক শাহ মুকুল, ইকবাল হোসেন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

``

পতাকা উত্তোলনের পর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর প্রভাষক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিল্লাল উদ্দিন, বদরুল আলম ফিট্টু, জাহাঙ্গীর আলম, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নাহারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দর্শনা সরকারি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পলাশ।

``

সন্ধ্যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়, দর্শনা অনিবার্ণ থিয়েটারের আয়োজনে দেশের গানের সঙ্গে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এর পর, অনিবার্ণ থিয়েটারের নির্বাহী সদস্য আওয়াল হোসেনের সভাপতিত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন অনিবার্ণ থিয়েটারের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. কমরেড শহিদুল ইসলাম, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, টপ-টেন বাউল ও দর্শনা সাংস্কৃতিক সংসদের সমন্বয়ক মনিরুজ্জামান ধীরু এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমন্বয়ক তানভীর আহমেদ অনিক।
আলোচনা শেষে, অনিবার্ণ থিয়েটারের শিল্পী ও নাট্যকর্মীদের পরিবেশনায় কবিতা আবৃতি, দেশের গানের সঙ্গে নাচ, কোরিওগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কবিরুল ইসলাম লিপু, সাজ্জাদ হোসেন এবং প্রভাষক মিল্টন কুমার সাহা। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসব আয়োজনে অংশ নেন এবং তাঁদের অবদান স্মরণ করেন।

``

অপরদিকে, জীবননগরে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল আমীন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জাকির উদ্দিন মোড়ল, উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন, উপজেলা একাডেমি সুপার ভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার প্রমুখ।

অন্যদিকে, ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বৃদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার আয়োজনে শহিদ বৃদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উথলী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উথলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম।

``

এছাড়াও, গণকবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজসহ মুক্তিযোদ্ধারা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রনি আলম নূর, সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবীর হোসেন, মো. সাজেদুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ.কে.এম নজরুল কবির, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. আবদুল্লাহ আল-আমিন শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

``

এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী পালন উপলক্ষে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি ছিলেন মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, টুরিস্ট (ওসি) খোন্দকার ফেরদৌস আহমেদ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা, ছাত্র সমন্বয়ক শাওন, উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাকের আলী, ৭১ সালের প্রথম সরকারের গার্ড অফ অনার প্রদানকারী আজিম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলামসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

``

এছাড়াও, গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোত্তালিব আলী। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন, গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম সোনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, কৃষি কর্মকর্তা এমরান হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা সদস্য সচিব মুজাহিদুল ইসলাম এবং গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল। শেষে, উপজেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের অনুষ্ঠান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

``

অন্যদিকে, বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ঝিনাইদহে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল। সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, উপাধ্যক্ষ এম এম শাহজালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জজ আদালতের পিপি এসএম মশিয়ূর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বকুল চন্দ্র কবিরাজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আবু হুরায়রা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এদিকে, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগেও শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনে বিস্তারিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাত ১২.০১ মিনিটে শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতা-কর্মীরা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)