ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা শহরে হঠাৎ ঘন কুয়াশার দেখা মিলেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার পর থেকে শহরের রাস্তা-ঘাট ঢেকে যায় সাদা চাদরের মতো কুয়াশায়। রাত যতই বাড়তে থাকে, ততই কুয়াশার পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। যা অসুবিধা সৃষ্টি করে জনজীবনে। এসময় কুয়াশার কারণে রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহন চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে খুব সাবধানে চলাচল করতে দেখা যায়।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, ‘রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে কুয়াশা ঘণ হচ্ছে। এই ধরণের কুয়াশা ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে বেশি দেখা যায়।’
ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত ১১টার পরে গাড়ি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রবেশ করি। এসময় হঠাৎই কুয়াশা বাড়তে দেখি। শহরের মধ্যে প্রবেশ করার পর থেকে সামনের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। খুব ধীরে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। যদি সারা রাস্তায় এমন কুয়াশা থাকে পৌঁছাতে সময় দ্বিগুণ লাগবে।’
শহরের দোকানপাটও কুয়াশার প্রভাব এড়িয়ে যেতে পারেনি। রাতে খোলা থাকা খাবারের দোকানের মালিক মামুন বলেন, ‘কুয়াশার কারণে ক্রেতা কম। সাধারণত রাত ১২টার পর পর্যন্তও ব্যবসা করি, কিন্তু আজ ১১টার পর থেকে হঠাৎ কুয়াশায় ক্রেতা কমেছে।’
শহরের নৈশ প্রহরী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই সময়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। হঠাৎ কুয়াশায় সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেছে। টর্চের আলোতেও দূরে দেখা যাচ্ছে না।’
পথচারীরাও এই কুয়াশার সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। জরুরি কাজে বের হওয়া সাদিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাজে রাতে বের হতে হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। কুয়াশার জন্য গতি কমিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হচ্ছে। রাস্তায় শুধু হেড লাইটের আলো দেখা যাচ্ছে, কাছে আসার পর বুঝা যাচ্ছে সেটি কি যান।’
শহরের বড় বাজার থেকে কোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়কে কথা হয় বেশ কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে। তারা বলেন, ‘রাতের কুয়াশা চুয়াডাঙ্গা শহরের পরিবেশকে মায়াময় করে তুললেও, এটি কিছুটা অসুবিধার সৃষ্টি করছে। এমন কুয়াশা মাঝে মাঝে দেখা যায়, তবে এবার তা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।’
