ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাচারিতা, চাহিদা অনুযায়ী সার না দিয়ে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অধিক দাম হাঁকানো, বেশিরভাগ সময় দোকান বন্ধ রাখা, সাব সেন্টার করে কৃষকদের হয়রানি, সাধারণ কৃষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসারকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। কৃষকদের দাবি, অতিদ্রুত এই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নিবন্ধন বাতিল করার।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স ফারুক আলম টুটুল। তার প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা আলমডাঙ্গার পুরাতন বাজারে। মূলত নির্ধারিত যে খাসকররা ইউনিয়নের জন্য তার ডিলার নিবন্ধন, তিনি সেই ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠান না রেখে সাব সেন্টার করে সার বিক্রি করে থাকেন। আবার খাসকররা ইউনিয়নের সাব সেন্টারটি অনিয়মিতভাবে পরিচালনা করেন মেসার্স ফারুক আলম টুটুলের ভাই শাহ আলম। তারা আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। খাসকররা বাজারে সার বিপনণের জন্য সাব সেন্টার করে ছোট একটি ঘর ভাড়া নেওয়া আছে। মেসার্স ফারুক আলম টুটুল ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে নানাভাবে হয়রানি ও অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা।
খাসকররা ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা সার ডিলারের স্বেচ্ছাচারিতা, চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়া, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অধিক দাম নেয়া, বেশিরভাগ সময় দোকান খুলে না রাখা, সাধারণ কৃষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
কথা হয় তিয়রবিলা গ্রামের চাষী রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার ১০ বিঘার উপরে চাষ আছে। কিন্তু আমি সার নিয়ে বড় ভোগান্তিতে আছি। ডিলারের ঘরে গেলে চাহিদা মতো সার দিতে পারে না, সময়মত দোকান খোলা পাই না। বাধ্য হয়ে অধিক দামে বাইরে থেকে সার নিতে হয়। আমরা সাধারণ কৃষক, আমাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনার মতো কেউ নেই।’
একই ধরণের অভিযোগ করেন ওই গ্রামের হাশেম আলীসহ বেশ কয়েকজন কৃষক। খাসকররা ইউনিয়নের রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের চাষী শামীম অভিযোগ করেন, ‘আমরা জমি অনুযায়ী সার ডিলারের কাছে তেমন সহযোগিতা পাই না। উনি সরকারি রেটের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অফার করেন। তখন বাধ্য হয়ে হয়ে বেশি দামে উনার কাছ থেকে অথবা নিকটস্থ সারের দোকান থেকে সার কিনতে হয়।’
পারলক্ষ্মীপুর গ্রামের চাষী রজব আলী বলেন, ‘কৃষি অফিসে গেলে বলে সারের সংকট নেই। কিন্তু উনি প্রায় সময়ই বলেন এত সার দেওয়া যাবে না। এই জিনিসটা আমার মাথায় ঢুকে না।’ রামদিয়া গ্রামের আনছার আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘সার ডিলারের দোকানই খোলা থাকে না, সার পাবো কীভাবে? অনেকেই জানে নির্ধারিত রেটের চেয়ে দাম বেশি দিলে ঠিকঠাক সার পাওয়া যায়।’ তালুককররা গ্রামের চাষী জিহাদ অভিযোগ করেন, ‘সার ডিলার থাকার যে সুবিধা, তা আমরা পাই না। উনি ইচ্ছে মতো দোকান খোলেন। সময়মত পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও বলে এত সার দেওয়া যাবে না।’
খাসকররা গ্রামের চাষী ইমারত হোসেন আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমার ১৫ বিঘার উপরে চাষ। কোনো সময়ই ঠিকমতো সার পাই না। আজ সকালেও গেছি সারের জন্য, যা চাহিদা তার তিন ভাগের এক ভাগ দিচ্ছে। ব্যবহার দেখে মনে হয় ফ্রি সার আনতে যায়। অথচ বেশি দামে সার বিক্রি করে তখন সংকট থাকে না। অনেক জায়গায় অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’ প্রায় একই অভিযোগ করেন খাসকররা গ্রামের হাসিবুল ইসলাম।
এদিকে, সার ডিলার শাহ আলমের বিষয়ে এ প্রতিবেদকের তথ্য নিতে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দলবেঁধে লোকজন তার বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, বর্তমান ডিলারকে বাতিল করে স্থানীয় কাউকে ডিলারশিপ দিলে চাষীরা উপকৃত হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার রেহানা পারভীন বলেন, খাসকররা ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলারের বিরুদ্ধে কৃষকরা অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক উপজেলা কৃষি অফিসকে নির্দেশনা দিয়েছেন, এটা তদন্ত করার। আমরা এ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তপূর্বক জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন পাঠাবো। তিনি বলেন, ওই সার ডিলারের প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা অন্য স্থানে। ওই ইউনিয়নে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় উনি সাব সেন্টার করে চালাচ্ছেন।
বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স ফারুক আলম টুটুল প্রতিষ্ঠানের মালিক ফারুক আলম টুটুল এবং তার ভাই শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সে কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
