ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার শীতল প্রকৃতিতে তাপমাত্রা ক্রমশ নিচে নামছে। সীমান্তবর্তী এই জেলার মানুষ এখন শীতের প্রকোপ অনুভব করছে। চলতি মৌসুমে এ জেলায় তাপমাত্রার পারদ একের পর এক নিচে নামছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও কমার পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। গত বুধবার চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে। তবে গতকাল শুক্রবার তাপমাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিন সকাল ছয়টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল নয়টায় তাপমাত্রার পারদ আরোও নিচে মেনে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা এ মৌসুমের গতকাল পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৭ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে এবার তা আরও কমে যাচ্ছে। বাতাসের আর্দ্রতাও কিছুটা বেশি থাকায় ঠাণ্ডার অনুভূতিও প্রবল হচ্ছে। শীত আরও তীব্র হলে চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা শহর এলাকার নৈশ প্রহরী সাইফুল ইসলাম গ্যাদা। তিনি বলেন, ‘রাতের ঠাণ্ডা এতটাই তীব্র হচ্ছে যে, আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। মোটা কাপড় বা শীতবস্ত্র ছাড়া বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
রেল স্টেশন এলাকার রিকশা চালক সালাম বলেন, ‘ভোরের দিকে যখন ভাড়া নিয়ে যাই, তখন হাত-পা জমে যায়। গরম পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই, তাই ঠাণ্ডা সহ্য করেই রিকশা চালাতে হচ্ছে। সরকারি সহায়তা পেলে আমরা শীত থেকে রক্ষা পেতাম।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই জেলার তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৭ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরপর তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
