ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির আটককৃত প্রায় ১১ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে অতিথিরা
এস এম শাফায়েত: ভারত সীমান্ত দিয়ে অবৈধপথে আসা ফেনসিডিল, মদ ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্যের ¯্রােত বয়ে গেছে। মাদকদ্রব্যের ¯্রােতে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন সদরের টেনিস গ্রাউন্ড যেন প্রবল বর্ষণকেও হার মানিয়েছে। সোমবার দুপুরে বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়ান সদরের টেনিস গ্রাউন্ডে রোলারের নিচে চাপা দিয়ে ও ইটভাঙা মেশিনে ফেলে ১ লক্ষ ৫৮৮ বোতল ফেনসিডিল এবং ৩৭ হাজার ৮৩১ বোতল দেশী বিদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক এমনই দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ ছাড়াও ১০৭ কেজি ৯১৫ গ্রাম গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে ও ২৩ হাজার ২১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পানি ঢেলে ধ্বংস করা হয়। ভারত থেকে দামুড়হুদা, দর্শনা, জীবননগর এলাকাসহ চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি’র অধিনস্থ বিস্তির্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। ধ্বংস করা এ মাদকের মূল্য ১০ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৭০২ টাকা প্রায়।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবি’র দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী তৌফিকুল ইসলাম (পিএসসি)। তিনি বলেন, শুধুমাত্র আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে মাদকদ্রব্য নির্মুল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ জাতির শক্র; তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।
বিশেষ অতিথি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খুলনা বিভাগের মধ্যে মাদক চোরাচালানে চুয়াডাঙ্গার অবস্থান শীর্ষে। ইতিমধ্যে মাদকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে জেলায় মাদক চোরাকারবারী ও গড ফাদার রয়েছে ২শ জন। খুব শীঘ্রই সেইসব চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু সাঈদ আল মাসউদ, ৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল রাশিদুল আলম, পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি শিক্ষাবীদ সিদ্দিকুর রহমান। এ ছাড়াও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মুস্তাফিজুর রহমান, ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর মুহাম্মদ লুৎফুল কবীর, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক জাফর ইকবাল, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাপিয়া আক্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আসলাম হোসেন, অন্যান্য সামরিক/বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি, এলাকার বিভিন্ন পেশার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমামগণ এবং স্কুল/কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
