ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের সাধুহাটি (বিএডিসি) বীজ উৎপাদন খামার থেকে কোনো টেন্ডার ছাড়াই ৫ লাখ টাকার খড় (বিচালি) বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বিঘা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রয় করা হয়েছে খড়গুলো। খামারের উপ-পরিচালক ও লেবার সর্দারেরা ২৪০ বিঘা জমির খড় কাউকে না জানিয়ে কোনো টেন্ডার ছাড়াই খড়গুলো বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাধুহাটি বীজ উৎপাদন খামারে ধানকাটা মেশিন দিয়ে ধান সংগ্রহ করার পর জমিতেই পড়ে আছে শুকনা বিচালি। এই বিচালি মাঠ থেকে আলমসাধু, পাওয়ার ট্রিলারের ট্রলি বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে গরুর খামারিরা। প্রতিদিন ১০-১৫টি গাড়ি বোঝাই করে এই বিচালি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফার্মের সর্দার সাত্তার ও আনারুল এই বিচালি বিক্রয়ের দায়িত্বে আছেন।
জানা যায়, সাধুহাটি (বিএডিসি) বীজ উৎপাদন খামার ১০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানে অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটসহ অনাবাদি জমি ২০ একর এবং চাষ যোগ্য জমি রয়েছে ৮০ একর। ৮০ একর জমিতেই প্রতি বছরই আমন ও ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়। খামার থেকে ধান সংগ্রহের পর বিচালি মাঠেই পড়ে থাকে। সেগুলো সংরক্ষণ বা বিক্রয় করা হয় না। তবে গোপনে সুকৌশলে কোনো টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করা হয় এই খড়গুলো। এভাবে প্রতিবছর গোপনে লেবার সর্দার দিয়ে ৪-৫ লাখ টাকার বিচালি বিক্রয় করে থাকেন ফর্মের উপ-পরিচালক।
খড় ক্রয়কারী আজিজুল জানান, খামারের সর্দার সাত্তারের মাধ্যমে তিনি ৫ হাজার টাকা দিয়ে ২ বিঘা জমির খড় ক্রয় করেছেন। তার মতো অনেকে প্রয়োজন মতো মাঠ থেকেই খড় ক্রয় করেছেন।
এ বিষয়ে ফার্মের সর্দার সাত্তার বলেন, ‘এই বিচালি মাঠেই পচে নষ্ট হয়ে যায়। এখন গরুর খাবারের খুব অভাব। এখানে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে এগুলো বিক্রয় করে দিচ্ছি। আমরা মাঠ থেকেই এগুলো বিক্রয় করে দিয়েছি। যারা এইগুলো কিনছে তারা লোকজন নিয়ে খড়গুলো মাঠ থেকেই নিয়ে যাচ্ছে।’ ফার্মের আরেক শ্রমিক আনারুল ইসলাম বলেন, মাঠে পড়ে থাকা খড়গুলো পরিচিত লোকের কাছে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করা হয়েছে।
বিনা টেন্ডারে খামারের বিচালি বিক্রয়ের বিষয়ে জানতে সাধুহাটি (বিএডিসি) বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক মাহাবুব রহমানকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যুগ্ম পরিচালক কে এম কামরুজ্জামান বলেন, টেন্ডার ছাড়া খামারের একটি খড়ও বিক্রয় করার কোনো সুযোগ নেই।
