ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত সরাসরি আন্তঃজেলা বাস চলাচল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘ ৪ বছর বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার (০২ ডিসেম্বর) থেকে পুনরায় এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তবে কালীগঞ্জ বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তারা চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস কালীগঞ্জে ঢুকতে দেয়নি। ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসগুলো কোটচাঁদপুর পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় ফিরে আসে। তবে সূত্রের খবর, গতকাল সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বসে বিষয়টি সমাধান করায় কোনো বাঁধা ছাড়াই আজ থেকে সরাসরি বাস চলাচল করবে।
গতকাল সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার ও হাসাদাহ বাজারে দেখা যায়, সকাল থেকে বাসগুলো যথানিয়মে যশোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছিলো। দীর্ঘদিন পর লং রুটে ট্রিপ পেয়ে বাসের চালক-হেল্পারদের মাঝেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। যাত্রীদের মাঝেও ছিল স্বস্তির অনুভূতি। তবে এই উচ্ছ্বাস ও স্বস্তির অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কালীগঞ্জ বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বাস কালীগঞ্জে ঢুকতে পারেনি। তবে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো হাসাদাহ বাজারের পরিবর্তে কোটচাঁদপুর পর্যন্ত ট্রিপ পেয়ে পুনরায় ফিরে আসে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে আরও চরমে।
দর্শনা থেকে শাপলা পরিবহনের বাসে ওঠা নাজমুস সাকিব নামের এক যাত্রী জানান, ‘আগে ট্রেনে যশোর পর্যন্ত সরাসরি যাতায়াত করতাম। আজ যশোর পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচল করবে জেনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা না করে বাসে উঠেছি। এখন শুনছি বাস কোটচাঁদপুর পর্যন্ত গিয়ে নামিয়ে দিবে। এতে করে কষ্টের সাথে ভোগান্তি বেড়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে ডাক্তার দেখাতে যাওয়া একজন নারী বলেন, ‘চিকিৎসকের কাছে আগেই সিরিয়াল দিয়ে রেখেছিলাম। যথাসময়ে বাসেও উঠেছি, কিন্তু বাস সরাসরি না যাওয়ায় এখন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সময় মতো পৌঁছে ডাক্তার দেখাতে বেগ পেতে হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের অধীনে ৩৯টি বাস হাসাদাহ পর্যন্ত চলাচল করে। আর কালীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির ১২০টি বাস ও যশোর মালিক সমিতির ৬টি বাস যশোর থেকে হাসাদাহ পর্যন্ত চলাচল করে। চুয়াডাঙ্গার বাসগুলো সকাল থেকে যশোর ও খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসময় যশোর ও খুলনার অভিমুখী যাত্রীর চাপ থাকে। আর সকালে যশোর ও কালীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসলেও এসময় তেমন যাত্রী থাকে না। দুপুরের পর থেকে চুয়াডাঙ্গার বাসগুলো আবার যশোর থেকে ছেড়ে আসে। ওই সময়ও ফিরতি যাত্রীদের চাপ থাকে। আর চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর বা কালীগঞ্জের বাসগুলো ওই সময় কম যাত্রী নিয়ে ফিরে যায়। তিন জেলার মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের মধ্যে এটা নিয়ে একটা সমস্যা।
আবার কালীগঞ্জের মালিক সমিতির বহরে ১২০টি বাস হওয়ায় প্রত্যেক বাস প্রতিদিনি ট্রিপ পায় না। একটি বাস মাসের ৩০ দিনের ভেতর ১৮ দিন ট্রিপ পায়। বাকি ১২ দিন বসে থাকতে হয়। আর চুয়াডাঙ্গা জেলা মালিক সমিতির বহরে বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রায় সব বাসই প্রতিদিনি ট্রিপ পায়। এটা নিয়েও দুই পক্ষের মাঝে একটা আপত্তি আছে।

কালীগঞ্জ শ্রমিক ইউনিয়নের এক কর্মচারী জানান, ‘সকালে যশোর থেকে চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত ট্রিপে তেমন একটা যাত্রী থাকে না। এতে তাদের তেলের টাকাও ওঠে না। পক্ষান্তরে সকালে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো যাত্রী বোঝাই করে যশোরে পৌঁছায়। এতে তারা বেশ লাভবান হয়। এটা নিয়েই মূলত সমস্যা। গাড়ি হাসাদাহ পর্যন্ত চলছে, এটাই ঠিক আছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের এক কর্মচারী জানান, ‘সোমবার সকাল থেকে (২ ডিসেম্বর) থেকে যশোর পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচল শুরু হয়। সকালের দিকে ৫-৬টির মতো বাস যশোরে পৌঁছায়। এরপরে কালীগঞ্জের মোটর শ্রমিকরা আমাদের বাস চলাচলে বাঁধা দেয়। পরে আমরা হাসাদাহের পরিবর্তে কোটচাঁদপুর পর্যন্ত ট্রিপ মেরে আবার ফিরে আসি।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজি আবুল কালাম বলেন, ‘কালীগঞ্জের মোটর শ্রমিকদের বাঁধার কারণে গতকাল যশোর পর্যন্ত বাস চলাচলের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। এরপর গতকাল সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধান করেছেন। আমরাও টেলিফোনে যুক্ত ছিলাম। সব দ্বন্দ্ব-ঝামেলা মিটে গেছে। আগামীকাল (আজ) থেকে কোনো বাঁধা ছাড়াই পুরোদমে চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত বাস চলাচল করবে।’
