ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ অ্যান্টি¯েœকভেনম
সোহেল সজীব: চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে সর্প দংশনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিএন্ডবিপাড়া ও মেহেরপুরের শেওড়াবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের দুজনরেই মৃত্যু হয়। জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সিএন্ডবি মাদ্রাসাপাড়ায় নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলো সজিব (১৮)। রোববার ভোরে বিষধর একটি সাপ সজিবের ডান হাতে ছোবল দেয়। পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ভর্তির পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে সজিবের মৃত্যু হয়। নিহত সজিব পৌর এলাকার সিএন্ডবি মাদ্রাসাপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে।
অপরদিকে, একইভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে দংশন করে গাংনী উপজেলার শেওড়াবাড়িয়া গ্রামের স্বপ্নাকে। পরে তাকে উদ্ধার করে নেয়া হয় বিভিন্ন ওঝা-কবিরাজের কাছে। সেখানে ঝাড়ফুঁকের এক পর্যায়ে স্বপ্নার অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৮টার দিকে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে তাকে ১০টি অ্যান্টি¯েœকভেনম দেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বপ্নার মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত স্বপ্না খাতুন (১৭) গাংনী উপজেলার শেওড়াবাড়িয়া গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টি¯েœকভেনম ইনজেকশন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে একেকটি অ্যান্টি¯েœকভেনম ইনজেকশন বাইরে থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামিম কবির জানান, ওঝা-কবিরাজের কাছে সময় বিলম্ব হওয়ায় স্বপ্নার মৃত্যু হয়েছে। আরও আগে তাকে হাসপাতালে নিলে হয়তো তাকে বাচানো সম্ভব হয়তো।
অ্যান্টি¯েœকভেনম ইনজেকশন সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সাপে কাটা ১০৪ জন রোগি ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন মারা যায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি অ্যান্টি¯েœকভেনম ইনজেকশন আনার জন্য ঢাকায় গেলে তাঁরা রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা বলে। ফলে এখন রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে রিপোর্ট ঢাকায় পাঠানো হবে। এরপর অ্যান্টি¯েœকভেনম ইনজেকশন পাওয়া যাবে। তখন এ সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান তিনি।
