ছবির ক্যাপশন:
টাকার জন্য আলমডাঙ্গার পুরাতন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী তুষার আহমেদ সবুজকে হত্যা করে তারই দুই সহযোগী। মোটরসাইকেলসহ সবুজকে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। র্যাব-১২ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি (সিপিসি-৩) মেহেরপুর ক্যাম্প ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সাহাদ আলীর ছেলে সাগর আহমেদ (২০) ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের ইউসুফ হোসেনের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৫)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় র্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফউল্লাহ পিপিএম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফউল্লাহ-পিপিএম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গত ১৩ নভেম্বর, র্যাব-১২, সিপিসি-৩, মেহেরপুর কোম্পানি কমান্ড ও পুলিশের যৌথ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকা থেকে সাগর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সাগর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তিতে অপর আসামি জহুরুল ইসলামকে আলমডাঙ্গা সরকারি খাদ্যগুদাম গেইটের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের গজারিয়া মাঠে একটি মেহগনি বাগানের মধ্যে মোটরসাইকেলসহ তুষার আহমেদ সবুজ (২৫) নামের এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। নিহত তুষার আহমেদ সবুজ আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বাদেমাজু গ্রামের ফকিরপাড়া এলাকার গরু ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সবুজ পুরাতন মোটরসাইকেলের ব্যবসা করতেন। এই ঘটনায় নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে র্যাব-১২ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিদের সনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সাগরকে আদালতে নিলে তিনি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার পেছনের কাহিনী:
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি ও নিহত সবুজ দীর্ঘদিন থেকে পুরাতন মোটরসাইকেল কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আসামি সাগর ও অন্য আসামি জহুরুল ইসলাম টাকার জন্য সবুজকে মোটরসাইকেল বেচা-কেনা এবং গাঁজা সেবনের কথা বলে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে সবুজকে হত্যা করে তার কাছে থাকা টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে আলামত ধবংসের জন্য মোটরসাইকেলসহ সবুজকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা রুজু হয়, যার মামলা নম্বর ১২, তারিখ ১৪/১১/২৪ ধারা-৩২০/২০১/৪৩৫/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। র্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফউল্লাহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল বেলা ১১টায় চাঞ্চল্যকর সবুজ হত্যা ঘটনার আশানুরূপ অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ‘সবুজ হত্যা মামলা নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে আটককৃতদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
এর আগে নিজত সবুজের পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, মোটরসাইকেলের ব্যবসা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে সবুজের মনোমালিন্য চলছিল, যা রেষারেষির পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ঘটনার আগের দিন বিকেলে একটি ফোন মেসেজে ডাকা হলে সবুজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাত আটটার দিকে তার নম্বরে কল দেয়া হলে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করার পরপরই কলটি কেটে দেন। তারপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালেই তার অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার হয়। পরিবার এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচার দাবি করেছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত চলছে। জিহাদ ও জহুরুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মোটিভ উদ্ঘাটন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত সকলতে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেয়া হবে।’
