ভালোভাবে চলছে না ঝিনাইদহ পৌরসভা, নাগরিক সেবা ঠেকেছে তলানীতে

আপলোড তারিখঃ 2024-11-11 ইং
ভালোভাবে চলছে না ঝিনাইদহ পৌরসভা, নাগরিক সেবা ঠেকেছে তলানীতে ছবির ক্যাপশন:

ভালোভাবে চলছে না ঝিনাইদহ পৌরসভার নাগরিক সেবা। পাড়া—মহল্লায় আবর্জনার স্তূপ, সড়কে বাতি নেই, ড্রেনের পানিতে জলাবদ্ধতা— সর্বোপরি রাস্তাঘাটের বেহাল হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পেঁৗছেছে। পৌরসভার কাউন্সিলরদের অপসারণের পর অনেকটা এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে পৌরসভার বাসিন্দারা মনে করেন। এদিকে ঝিনাইদহ পৌরসভার অফিসিয়াল কাজেও কোনো গতি নেই। ফাইলপত্র যথাসময়ে স্বাক্ষর না হওয়ায় পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের আদেশ নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক সেবা তলানীতে ঠেকেছে।
কাঞ্চননগর পাড়ার তৌফিকুল ইসলাম জানান, তার বাড়ির পাশে অবৈধভাবে মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক ব্যক্তি স্থাপনা তৈরি করছিলেন। তিন দিন ধরে পৌরসভায় ঘুরেও কাজ বন্ধের চিঠি দিতে পারেননি। পৌরসভা মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও দখলদার মোয়াজ্জেম হোসেন অপ্রতিরোধ্য। পরে অবশ্য একজন প্রকৌশলী পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়।
হামদহ মোল্লা পাড়ার গৃহবধূ নাছিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামীর মৃত্যুর সনদ নিতে দিনের পর দিন ঘুরে হয়রানি হয়েছেন। একই পাড়ার তাছলিমা খাতুন অভিযোগ করেন, তার বাড়ির সামনে দুই মাস ধরে পানি জমে ছিল। পানি নিষ্কাশনে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ব্যাপারীপাড়া বাসিন্দা হাসান মাহমুদ জানান, তার বাড়ির সামনে প্রতিদিন মহল্লাবাসী আবর্জনা ফেলে রাখে। পৌরসভায় সংবাদ না দিলে ময়লা ফেলার গাড়ি আসে না। উপশহর পাড়ার বাসিন্দা মীরা বেগম জানান, তাদের পাড়ার সড়ক বাতি দুই মাস ধরে নষ্ট ছিল। পৌরসভায় একাধিকবার খবর দেওয়ার পর সড়ক বাতি লাগানো হয়। একই পাড়ার বাসিন্দা মেহেদী হাসান লাভলু জানান, তাদের মহল্লাটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাছে হওয়ায় বহু সরকারি কর্মকর্তা এই পাড়ায় ভাড়া থাকেন। কিন্তু বর্ষার সময় তাদের পাড়ার রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করা যায় না। সবসময় কাঁদাপানিতে ডুবে থাকে। ছেলে—মেয়েরা স্কুল—কলেজে যেতে পারে না। বাড়ি থেকে জুতা খুলে যেতে হয়। ড্রেন দিয়ে সিঅ্যান্ডবি পুকুরের পানি পাড়া—মহল্লায় ঢুকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে বলেও মেহেদী হাসান লাভলু যোগ করেন।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের প্রধান সমস্য এখন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ না করায় শহরের সব পাড়া—মহল্লার দশা করুণ। অন্যদিকে শহরের আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত খাল, পুকুর ও নালা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করায় পানি বের হতে পারছে না। পাঁচ বছর পরপর মেয়র আসে মেয়র যায়, কিন্তু পৌর নাগরিকদের যে সমস্যা তা নিরসন হয় না।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র সাইফুল ইসলাম মধু জানান, কাউন্সিলরদের অপসারণের পর জেলার কোনো পৌরসভা ঠিকমতো চলছে না। নাগরিকরা কার কাছে গিয়ে সেবা নিবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না। ফলে পদে পদে হয়রানি ও জনভোগান্তি বাড়ছে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় জানান, ‘আমরা নাগরিক সেবা দিতে সর্বোচ্চভাবে কাজ করছি। কর্মচারীরাও সেভাবে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়র ও কাউন্সিলররা অপসারণের পর কাজে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠছি। ময়লা—আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে পাড়া—মহল্লায় বড় ট্রাক প্রবেশ করে না। তাই সেখানে ভ্যান সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। আশা করা যায়, নাগরিকরা দ্রুতই সেবা পাবেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)