ছবির ক্যাপশন:
- হারানোর বেদনাকে ভাগ করে নিতে আমরা এখানে এসেছি- রুমন
- বিএনপির সকলকে শহীদের আত্মত্যাগ হৃদয়ে বহন করতে হবে- ব্যারিস্টার রউফ
- যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তারা ন্যায় বিচার পাবেন- শরীফুজ্জামান
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত ও আহত চুয়াডাঙ্গার দুই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দল। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে শোকাহত এই দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নেন তারা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলটি দেশের সকল জেলার গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল প্রতিনিধি দলটি উপস্থিত হয় শহিদ শাহরিয়ার শুভর বাড়িতে।
এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ঢাকা থেকে সকল শহিদের বাড়িতে উপস্থিত হচ্ছে। তারেক রহমান দেশ থেকে দূরে থেকেও দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তারই নির্দেশ সকল শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের খোঁজ তিনি (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান) রাখেন। তিনি আমাদের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট করকারের নির্যাতনে গুম, খুনের শিকার প্রতিটি পরিবারের কাছেও পৌঁছাচ্ছেন। তিনি যেভাবে এই দলকে গুছিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আমরা বিশ্বাস করি তিনি ক্ষমতায় এসে দেশের প্রতিটি মানুষের দুঃখ দুর্দশা ঘোচাবেন। যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তারা ন্যায় বিচার পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও আমাদের সংগ্রাম কিন্তু এখনো চলছে। আমাদের সংগ্রাম সেদিনই শেষ হবে, যেদিন তারকে রহমান এই দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ভার নেবেন। তারেক রহমানের ন্যায় আমাদের প্রত্যেককে প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রউফ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যে আতঙ্ক ছাড়া আজ এখানে স্বাধীনভাবে কথা বলছি, তা গণ-অভ্যুত্থানে সকল শহিদদের ত্যাগের ফল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশ ও উদ্যোগে আমরা তাদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। যে চলে গেছে, তাকে আমরা ফিরিয়ে দিতে পারবো না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে নিশ্চয়ই পারি। সেই ভাবনা থেকেই তারেক রহমান আমদেকে সকল শহিদদের পরিবারের বেদনা ভাগ করে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।’
রউফ আরও চৌধুরী বলেন, দেশ নায়েক তারেক রহমান দূর থেকেও আমাদেরকে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে আমরা বিএনপিকে আরোও সংগঠিত করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সাজাতে চাই। দুই হাজার প্রাণের যে আত্মত্যাগ, আমরা যেন সেই আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি, বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের তাদের আত্মত্যাগকে হৃদয়ে বহন করতে হবে। সকল শহিদের আত্মত্যাগের প্রতিদান আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুন্দর চুয়াডাঙ্গা তথা সুন্দর দেশ গঠন করে দিতে চাই। যে কারণে তারা বুকের রক্ত দিয়েছে আমরা শহিদ জিয়ার সৈনিকেরা তা বৃথা যেতে দেব না।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘আমরা চুয়াডাঙ্গার সন্তান শহিদ শাহারিয়ার ও আহত একজনসহ দুটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে শহিদ হয়েছেন, আমরা জানি অর্থ দিয়ে তাদের ঋণ শোধ করা যাবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা এখানে এসেছি শুধুমাত্র তাদের পরিবারের হারানোর বেদনাকে ভাগ করে নিতে। তাদের সান্ত¡না দেয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে আমরা জুলাই শহিদ ও আহত প্রায় ৩০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যার পরিবার থেকে একজন শহিদ হন, সেই ব্যথা কেবল সেই পরিবারই বুঝতে পারে। আমরা সেই শহিদকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না, কিন্তু সান্ত¡না দিতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘শহিদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না, যেতে পারে না। ১৯৫২, ১৯৭১, ২০২৪সহ এই ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা জীবন দিয়েছেন কারো রক্ত বৃথা যায়নি। তার প্রমাণ, যে ফ্যাসিস্ট সরকার মনে করেছিলো তারা চিরকাল এই দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসে থাকবে। তারা পালিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই শহিদদের চিরকাল স্মরণ রাখতে চাই। আমাদের তথা দেশের মানুষের দল বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে যেন শহিদদের স্মরণে সড়কের নাম করণ করে দেয়। যেন আমরা ভুলে না যায়, তাদের রক্তে বিনিময়ে আমরা আবার নিজেদের অধিকার ফিরে পেয়েছি, ফিরে পেয়েছি স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার।’ এসময় তিনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-কে ধন্যবাদ জানানিয়ে বলেন, ‘আমার গর্ব হয়, এমন একটি দলের সঙ্গে আমি জড়িত, এমন একজন নেতা আমাদের আদর্শ যিনি, চুয়াডাঙ্গার মত ছোট একটি জেলাতেও আজ পৌঁছে গেছেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর মাধ্যমে।’ বাবু খান বলেন, ‘শহিদ শাহারিয়ারের জন্য দেশ নায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে তার পক্ষে এত দূর থেকে যারা এসেছেন সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।’
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর চুয়াডাঙ্গা জেলা সমন্বয়ক শামীম হাসান টুটুল, কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানা লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের সময় চুয়াডাঙ্গায় একজন শহিদ ও একজন আহতের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন প্রতিনিধি দলটি।
